কয়েকটি কবিতা: সেলিম মণ্ডল

পাতার শৌখিনতা

পাতার শৌখিনতা নিয়ে বাড়ি বানাব

আমার ঘর হবে

শিকড় ছড়ানো উঠোনে সিদ্ধধান

ছায়ার সঙ্গে মতবিরোধ ভুলে হেলে যাবে আয়ুর উপর

দোলনা নয়, কাণ্ডের ঝুরি থেকে প্রেম তুলে

নদীর মতো দুলে ওঠা

শ্বসন ও শোষণ- দুইয়ের উপর জন্ম দেবে ক্লোরফিল

ঠিক যেন শ্যাওলাজন্ম

মায়ের দু’চোখে সাঁতরাবে না আর কোনো বুনোহাঁস

ইউনিফর্ম

সাদা ইউনিফর্ম পরে একদিন সকলকে বেরোতে হবে

কোনো মাস্টারমশাই আর বেত হাতে নিয়ে বলবে না-

‘হোমওয়ার্ক করেছ?’

শুধু আতরের গন্ধ আর মিথ্যে দু’এক ফোঁটা কান্না

লেফট-রাইট, রাইট-লেফট করতে করতে ডুবে যাবে

স্কুল থেকে অনেকটা দূরে- অভিসন্ধির ভিতর

সংখ্যাতত্ত্ব

এবার একান্নতম প্রেমিক হিসেবে নাম লেখাব

তেপান্নদিন পর নিরুদ্দেশের বিজ্ঞাপনে

সাদাকালোয় দেখে নেব—

নিজের অভূতপূর্ব মুখ

মুখের ভিতর ফেলে আসা দশ আঙুলের ছায়া

বড়জোর মানুষ মানুষকে মনে রাখে সাড়ে তিন সপ্তাহ

এরপর সব আত্মীয়তা শবের সাধনা পর্যন্ত

কান্নার টলমলে জলে, প্রতিমার মতো দোলে সম্পর্ক

বাড়ি ঘর, ঘর বাড়ি পর্ণমোচী উদ্ভিদ

নিয়ম মেনে খসে পড়বে, পড়বেই অভিকর্ষের দিকে

নথভাঙা মেয়েটি

১।

নথভাঙা মেয়েটি ঝুম ঝুম করে হেঁটে যায়

সিঁথিতে তার চওড়া কপাল

জবার মতো, তাকে দেখেছি বহুবার

একই দর্শক আমি তালির ভয়ে পকেটে হাত ঢুকিয়ে

শুনেছি খুচরোর অহংকার

২।

খুচরো ভর্তি পকেট আমার

জবার জন্য কিনি প্যাকেটভর্তি লাল

ভাতারের ভাতে হাসপাতাল ফোটে

ফুটে ওঠে বালির কপাল… নথভাঙা মেয়েটির

নেই কোনো সিঁথি, আমরা আসলেই ভয়ঙ্কর দালাল

৩।

দালালের দ্বেষ নেই, দেশ আছে

নথভাঙা মেয়েটির আছে জীবন্ত কঙ্কাল

তাকে দেখেছি? না, তাকে একেবারেই দেখিনি

ছায়ার মধ্যে নাকছাবিগুলো নড়তে নড়তে যেভাবে নক্ষত্র হয়

সেখানে ঋতুর ভিতর ঋতুগুলো— গার্হস্থ্য সকাল

Facebook Comments

comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

scroll to top