গযল ।।তসলিম হাসান

গযল ১

রাত পড়ে নিল প্রিয় চোখ হয়ে হৃদয় আমার

নিয়তি বাঁধন ফেলেছে যে খুলে হৃদয় আমার।।

গোতমের চোখ যার দর্শনে কাতর বিশেষ

আপন গতিতে আপনাকে দেখে হৃদয় আমার।।

ঠোঁটে নবান্ন চোখে বসন্ত বেদনার তনু

দেখে ব্যথাতুর আপন করতে হৃদয় আমার।।

জেগেছে নয়ন যখন থেকেই মজেছে হৃদয়

প্রদীপের ধারা রপ্ত করেছে হৃদয় আমার।।

রে বিরহের পাত্রী তোমায় তসলিম ভাবে

জগতের বুকে জায়গা দিল সে হৃদয় আমার।।

গযল ২

হৃদয়ের আঙিনায় সৃষ্টিছাড়া বান্ধবের লক্ষণ ছিল

তোমার মলিন চোখ আমার দুখের চিহ্ন কখন ছিল।।

আবেগকে খামোখাই দোষারোপ করে কী হবে বন্ধু

আমাকে বুঝিয়ে বল বেহুঁশ কেন বুদ্ধিই যখন ছিল।।

সমস্ত চাঞ্চল্য নিয়ে ছুটে চলা তার পদক্ষেপসমূহ

ভুলেও মনে করো না বসন্ত বাতাস এ বিলক্ষণ ছিল।।

যমুনার জলে দেখা আপন প্রতিচ্ছবির রেখাপাত

আকৃতি পূজারী মন ভেতরে ভেতরে জারি তখন ছিল।।

কালের হাত পা গজে ঘটনা হলে তসলিম ঠিকই

ধর্মের শেকল সে তো বাতাসে নড়ে কেন যে কিছুক্ষণ ছিল।।

গযল ৩

তোমাকে দেখে এক লোক বলেছিল এ ঘরে জনমানুষ থাকে না

সব হারিয়ে যে নেমেছে পথে তার ভেতর বাহিরে যায় আসে না।।

অতীত ভবিষ্যত কেমন মিশে থাকে বর্তমানের স্মৃতি ও তৃষ্ণায়

দুঃখের সাথে তাল মেলাতে এমন সঙ্গীর খোঁজ সহজে মেলে না।।

বেদনাকে যে মেনেছে মেসাইয়া মস্তকে ভর দিয়ে চলাচল তার

ধ্যান তার এতই সুউচ্চের মিনারে জগৎ তাকে সইতে পারে না।।

হৃদয়ের মূল্যে আমাকে কিনে নেবে এমন খরিদ্দার কজন আছে

প্রহসনে মাত্রা যদি ছাড়িয়ে যায় সাঁই তবে দুখেও রুচি থাকে না।।

দয়ালবাক্য মনেই মোহন বুঝতে পেরেও মানতে আমি অপারগ

তুমি তো জানোই তসলিম প্রতিযোগিতা সবার রুচিতে ভাসে না।।

গযল ৪

চোখ থেকে উড়ে গেলে ব্যাকুল চাহনি ভরা মেঘ

পাখির পালক ছুঁয়ে ভেসে যাবে যাদু করা মেঘ//

রবিন নিশানা করে দয়াল নামের বোবা মনে

আহত হৃদয়টাকে মেনেছে পাথরে গড়া মেঘ//

একদিন ভাব ছিল ভাষা ছিল ভাবের শরীর

কোনদিন দেহ নিয়ে ভাব যেন জলহরা মেঘ//

কিছুদিন আহাজারি বাকি দিন বুক বাঁধে আশা

প্রিয়কে বোঝাতে চাই আমি সেই খুঁজে মরা মেঘ//

তসলিম জানো কিছু প্রাণের মানুষ কারে কয়

আঁচলের ছোঁয়া নাকি প্রিয়ার বাহুতে ধরা মেঘ//

গযল ৫

হায়রে আমার চোখের কাজল মুছলো ব্যথার দিনগুলি

সুখের আশায় কাটলো যাহার রঙ মহলার দিনগুলি।।

এই পথে এসে ভেঙে গেছে প্রিয় সকল পথের বাঁধন

প্রেমের বেণিতে এসেছে জোয়ার নিভেছে তৃষার দিনগুলি।।

ভুলে যাওয়ার মোহন বীণায় বাজাও আমায় বেদনারা

বুঝেছি যদিও কাকে যে জানাবো কেমন ব্যথার দিনগুলি।।

হৃদয়ের পরে হৃদয় রেখে যে মানুষ হয়েছে দুর্লভ

তার বিরহের গযল লিখেছে শত কামনার দিনগুলি।।

ধূলো লেগে কেউ ধূলি বনে যায় এও তো জগতে বিধান

তসলিম যে ধূলায় হেঁটে যায় যেন বিধাতার দিনগুলি।।

Facebook Comments

comments

২ Replies to “গযল ।।তসলিম হাসান”

  1. Fahmid Shishir বলেছেন:

    বাহ।দয়াল।
    অসাধারণ প্রতিটা লাইন।
    মাতলা থেকে মাকতা পুরোটাই যেনো সোনায় মোড়ানো।

  2. গৌরাঙ্গ হালদার বলেছেন:

    পাথরের বুক কেটে সৃজিত শিরির মুখ
    নরম মাটি ছেনে গড়া প্রিয়ার প্রতিমা
    কে কার তুলনা হায়
    একের বুকে বিরান মরুর বেদনা
    আরের চোখে চৈত্রের হাহাকার ।

    বন্ধুবর তসলিম, আপনার হৃদয় থেকেই না হয় বাংলা গজলের মুশায়েরা জমে উঠুক ।

    শুভকামনা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

scroll to top