গারো লোকগল্প-পর্বঃ২ II ম্যাগডিলিনা মৃ

গারো লোকগল্প-পর্বঃ২ II ম্যাগডিলিনা মৃ

বোরাপা

অনেক অনেক আগে আচিক আসং গ্রামে বোরাপা নামে এক ধনী কৃষক ছিল। ধানের মৌসুমে সে জুম ক্ষেতের পাশেই একটি বোরাং(গাছের উপরে তৈরি করা ঘর) এ থেকে জুম ক্ষেত পাহারা দিত। প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে সে চিৎকার করতে বলত, ‘আমি বোরাপা। এক সাহসী কৃষক। কে আসবে দেখি! যদি সাহস থাকে আমার সামনে এসে দেখাও। আমি দেখে নেব।’

এক রাতে খুব তাড়াতাড়ি ঘোষণা দিয়ে বোরাপা ঘুমিয়ে পড়েছিল। সেদিন মাঝরাতে এক দৈত্য বোরাং-এ ঢুকে দেখতে এসেছিল বোরাপা কীরকম প্রাণী যে প্রতিরাতেই এইভাবে চিৎকার করে ঘুমিয়ে পড়ে। দৈত্যটি বোরাপার বোরাংটিকে এমনভাবে নাড়াতে থাকলো ঘুম ভেঙ্গে গিয়ে বোরাপা কিছুই বুঝতে পারছিল না। ভয়ে তাঁর সারা শরীর অবস হয়ে গেল। সে কিছুতেই নাড়াচড়া করতে পারছিলা না এমনকি চিৎকারও করতে পারছিল না। শুধু বোঝার চেষ্টা করছিল কী ঘটছে। তারপর দৈত্যটি বোরাং-এ প্রবেশ করে চারপাশে তাকাতে লাগলো। বোরাং-এ রাখা একটি ছোট্ট চকচকে বর্ষার ফলা দেখে সেটি কী জিনিস তা দেখার জন্য দৈত্যটি হাতে নিল। বর্ষার ফলাটিকে হাতে নিয়ে দৈত্যটি এমন কৌতহূল নিয়ে দেখছিল যে, ধারালো বর্ষার ফলাটি তার বুক বরাবর ছিল। এদিকে বোরাপা পরিস্থিতি বোঝার জন্য চুপ করে তাকিয়ে রইলো। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই তার হুশ ফিরতেই সে পরিস্থিতি আঁচ করতে পারলো এবং চিৎকার করে বোরাং থেকে লাফ দিয়ে নিচে পড়ে গেল এবং বাড়ির দিকে দৌঁড়াতে লাগলো। বোরাপার চিৎকারে দৈত্যটি এমন চমকে উঠলো বর্ষার ধারালো ফলা তাঁর বুকে ঢুকে রক্ত বের হতে লাগলো। দৈত্যটি বোরাং থেকে লাফ দিয়ে বনের দিকে দৌঁড়াতে লাগলো এবং পথের মধ্যেই তার মৃত্য হলো।

মধ্যরাতে সেই মৃত দৈত্যটির সঙ্গী-সাথীরা প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য বোরাং-এ আক্রমণ করলো এবং বোরাপাকে না পেয়ে রাগে-ক্ষোভে বোরাংটি গুড়িয়ে দিয়ে চলে গেল।

গল্প বলেছেনঃ সুকন সাংমা রংরকগ্রি, গ্রামঃ মালাপাড়া, কামরূপ।   

গাছপালা এবং পাথর সৃষ্টি

পৃথিবী সৃষ্টির পর শুরুতে কোনো গাছগাছালি কিংবা পাহাড় পর্বত ছিল না। পুরো পৃথিবী জলে পরিপূর্ণ ছিলো। নস্তু-নুপান্তু তখন দুই গোরাং ভাই এবং পাত্রাং চাচাদের পৃথিবীজুড়ে পাহাড়-পর্বত এবং গাছপালার বীজ রোপন করার দায়িত্ব দিয়েছিলো কিন্তু গোরাং ভাই এবং পাত্রাং চাচারা ছিলো তখনো বালক এবং তারা সামুদ্রিক সিম এবং মাছধরার বর্ষা নিয়ে মাঠে খেলা করছিল। তাদের বয়স এমনই ছিলো যে কোনোদিকে কারো কথা না শুনে মাঠজুড়ে দৌঁড়-ঝাপ আর লাফালাফি করছিল, একে অপরকে চিৎকার করে ডাকছিল আর ধুলোতে গড়াগড়ি করে চুলে জট পড়ে গিয়েছিলো। ঠিক ঐ মুহূর্তে নস্তু-নুপান্ত তাদের ‘আসং রংগ্রিবো চিগা মিকচিদো’ গাছপালা আর পাহাড় পর্বতের বীজ বপন করার নির্দেশ দিয়েছিলো।

পরবর্তীতে তাদের বাবা ‘বামিন রাচা সোজন গিটেল’ বীজ বপনের জায়গাগুলো ঘুরে দেখলো গোরাং ভাইরা খেলার ছলে এমনভাবে বীজবপন করছে যে সেগুলো থেকে গাছপালা কিংবা পাহাড় পর্বত জন্ম নিলে পৃথিবীতে কোথাও চাষাবাদের জন্য জমি, খোলা মাঠ কিংবা মাছধরার জন্য সমুদ্র কিংবা নদী থাকবে না। ফলে ‘বামিন রাচা’ তাদেরকে দীর্ঘ বিরতি দিয়ে বীজবপন করার নির্দেশ দিল। কিন্তু তারা বালক বলে কিছুতেই সেটি বুঝতে পারছিল না এবং নিজেদের খেয়ালখুশি মতো বীজ ফেলতে লাগলো। এক পর্যায়ে বামিন রাচা রেগে গিয়ে তারা যেখানে বীজ বপন করছিলো সেখান থেকে অনেক দূরে অহরাচা রংবেরিতে নিয়ে ফেললো।  কিন্তু ততক্ষণে তারা যে জায়গাগুলো বীজবপন করেছিলো সেখানে তিল পরিমাণ সমতল ভূমিও অবশিষ্ট ছিল না।

শেষমেষ রংবেরি থেকে এক রাতে গোরাং ভাইরা দক্ষিণ ‘দোনারি ওয়াকনাচিল’ পর্যন্ত বীজবপন করেছিলো। এক রাতেই গাছপালা আর পাহাড়-পর্বতের বীজগুলো তাদের কাঙ্ক্ষিত আকার ধারণ করে পৃথিবীকে সুন্দর রূপ দিলো। কিন্তু শুধু পাহাড় পর্বত আর উপত্যকায় পৃথিবীকে নগ্ন দেখাচ্ছিলো এবং এর স্থলভূমি ছিলো খুব অনুর্বর। তখন নস্তু-নপান্তুর পৃথিবীর এই নগ্ন অবস্থা দেখে কিছুতেই ভাল লাগছিল না। দেবী তখন তাঁর বোন তিকরি-তিকসিকে পৃথিবী জুড়ে নানা গাছপালা, লতাপাতা আর ঝোপঝাড় দিয়ে সাজানোর কথা বললেন। সেই থেকে পৃথিবীতে প্রথম গাছপালা আর ঝোপঝাড়ের সৃষ্টি হয়েছিল।

গল্প বলেছেনঃ টোটিম সাংমা নেংমিনজা, গ্রামঃ রংজেং, গারো পাহাড়

দুই ভায়রা

একসময় আচিক আসং’র এক গ্রামে দুই ভায়রা জঙ্গা এবং রঙ্গা বাস করতো। জঙ্গা বিয়ে করেছিলো চঙ্গা নামক এক লোকের বড় কন্যাকে আর রঙ্গা বিয়ে করেছিল ছোট কন্যাকে।

একবার দুই ভায়রা তাদের গ্রাম থেকে কিছু শুকনো মরিচ কাঁধে বোঝাই করে পাশের গ্রামে যাচ্ছিলো। পথিমধ্যে একরাত্রি তারা একটি নদীর পাড়ে বালির মধ্যে কাটিয়েছিলো। রাতে লাকড়ি জোগাড় করে আগুন ধরিয়ে ভাত-তরকারি রান্না করে খেতে খেতে রঙ্গা বললো, ‘আমাদের আরো কিছু লাকড়ি জোগাড় করা দরকার। রাতে অনেক ঠাণ্ডা বাড়বে।’

জঙ্গা জবাব দিলো, ‘দিনের বেলা সূর্যের প্রখর তাপে বালিগুলো গরম হয়ে থাকে খামাখা লাকড়ি জোগাড় করে লাভ নেই। আমি বরং বালির খাদ করে গা ডুবিয়ে ঘুমিয়ে পড়বো। এতে গরম লাগবে।’

রঙ্গা জঙ্গার কথার তেমন গুরুত্ব না দিয়ে নিজের জন্য লাকড়ি জোগাড় করলো এবং সেগুলো জ্বালিয়ে পাশেই ঘুমিয়ে পড়লো। জঙ্গাও বালিতে খাদ করে ঘুমিয়ে পড়লো। রাত বাড়ার সাথে সাথে ঠাণ্ডাও বাড়তে লাগলো এবং বালুও ঠাণ্ডা হতে শুরু করলো। এদিকে মধ্যরাতে রঙ্গা কয়েকবার জঙ্গাকে ডেকে সাড়াশব্দ না পেয়ে জঙ্গার খবর নিতে গিয়ে দেখলো জঙ্গার শরীর ঠাণ্ডা বালুতে জমে বরফ হয়ে যাচ্ছে। সে তাড়াতাড়ি জঙ্গাকে বালু থেকে তুলে এনে আগুনের পাশে রেখে সারা শরীর ঘষে গরম করতে লাগলো। অবশেষে আগুনের তাপে জঙ্গার রক্ষা হলো এবং সকালে পুনরায় ভ্রমণের জন্য প্রস্তুত হতে পারলো। পরদিন পাশের গ্রামে মরিচ বিক্রয় করে রঙ্গা জঙ্গা তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে আবার নিজেদের গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হলো। আবারো একদিনের পথ অতিক্রম করে ফিরতে হবে। ফেরার পথে রাত্রিবেলা বনের মধ্যে দুই ভায়রা একটি বিশাল পিপুল বৃক্ষের নিচে থামলো। আগুন জ্বালিয়ে ভাত-তরকারি রান্না করে খেতে খেতে রঙ্গা বললো, ‘চল এই গাছের নিচেই আমাদের থাকার ব্যবস্থা করি।’ জঙ্গা জবাব দিল, ‘আমি এত বোকা নই। এই বনের মধ্যে একটা গাছের নীচে শুয়ে পড়বো। রাতের বেলা বাঘ-ভাল্লুকে খেয়ে ফেলবে। কাপড় দিয়ে নিজেদের বেঁধে গাছের উপরে উঠে ঘুমানো উচিত।’ রঙ্গার কিছুতেই পছন্দ হলো না। সে বললো, ‘আমি গাছে উঠতে পারি না; আর গাছের উপরে ভাল ঘুমও হবে না। আমি বরং নিচে ঘুমাই। তুমি গিয়ে উপরে ঘুমাও।’

রঙ্গা কিছু লাকড়ি জোগাড় করে জ্বালিয়ে সেটির পাশেই ঘুমিয়ে পড়লো। এদিকে বাঘের ভয়ে জঙ্গা গাছের উপরে উঠে একটি ডালের সঙ্গে নিজেকে বেঁধে নিজেকে রক্ষার উদ্দেশ্যে দেবতা কালকামি কালগ্রাকে স্মরণ করে ঘুমিয়ে পড়লো।

মধ্যরাতে ঘুমের মধ্যে রঙ্গার মাথার পাশে কি যেন উপর থেকে ধপাস করে পড়লো। রঙ্গা ভয়ে লাফিয়ে ঘুম থেকে উঠে আগুনের একটি শিখা হাতে নিয়ে দেখলো গাছের উপর থেকে টপ টপ করে রক্ত পড়ছে আর একটি মোটা হাড় নিচে পড়েছে। মুহূর্তে রঙ্গা ভয়ে সেখান থেকে দৌড়ে পালাতে লাগলো। কিছু দূর গিয়ে রঙ্গা বুঝতে পারলো একটি বাঘ গাছের ডালে উঠে জঙ্গাকে ধরে ফেলেছে এবং তার মাংস খাচ্ছে।

পরদিন সকালে ভীষণ দুঃখ নিয়ে দ্রুত গতিতে রঙ্গা গ্রামে ফিরলো আর গ্রামবাসীকে জঙ্গাকে বাঘে খেয়ে ফেলার গল্প বললো।

গল্প বলেছেনঃ জঙ্গাল মারাক রাকসাম, গ্রামঃ রংবিংগিরি, গারো পাহাড়।

চুরির শাস্তি

 অনেক অনেক আগে আচিকদের মধ্যে রাকদা নামের এক লোক ছিলো যার ছেলের নাম ছিলো দেংজা। গ্রামে দুর্ভিক্ষ দেখা দেওয়াতে পিতাপুত্র পাশের গ্রামে গিয়ে মাঠে জুম ক্ষেতে কাজ করতে শুরু করলো। প্রখর রৌদ্রে সারা দিন কাজ করে তাদের পারিশ্রমিকের বিনিময়ে দুই ঝুড়ি চাল পেল। সন্ধ্যাবেলাই দুজনে চালের ঝুড়ি কাঁধে নিয়ে বাড়ির পথে ফিরছিলো। পথমধ্যে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য তারা একটি পিপুল গাছের নিচে থামলো। দেংজার খুব পিপাসা পেয়েছিলো তাই সে আশেপাশের জলের খোঁজ করতে লাগলো এবং তার বাবাকে অপেক্ষা করার জন্য বলে গেল। দেংজার অনুপস্থিতে রাকদা তার ঝুড়ি থেকে তিন জনের খাওয়ার মতো চাল চুরি করে নিজের ঝুড়িতে রেখে দিলো আর দেংজার ঝুড়িটির চালগুলোকে আগের মতো করে রাখলো যেন সে এসে দেখে বুঝতে না পারে।

ঘন্টাখানেক পর দেংজা ফিরে আসে। সে কিছুই বুঝতে পারেনি।

কয়েক মাস পর ঘোরতর অসুস্থ হয়ে রাকদার মৃত্যু হয়। যেহেতু দেংজা ছিলো রাকদার একান্ত বাধ্য সন্তান তাই সে পিতার মৃত্যুর সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে তার দেহটির সৎকার করলো এবং বাড়ির মধ্যে বাবার আত্মার স্মরণে শ্রাদ্ধানুষ্ঠান সম্পন্ন করলো।

কিন্তু দেবী দিংগিপা বাহবরা কিছুই ভোলে না। সে প্রতিটি আচিকদের সকল কর্মকাণ্ড খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ করে এবং সব ঠিকঠাক লিপিবদ্ধ করে রাখে। ফলে রাকদার চুরির জন্য শাস্তিস্বরূপ তাকে পুনরায় গরু হয়ে পৃথিবীতে জন্ম গ্রহণ করে পুত্র দেংজার ধান ক্ষেতে টানা পাঁচ বছর হালচাষ করে অবশেষে মৃত্যূবরণ করে। দেংজা মৃত গরুটির হাড়-মাংস আলাদা করে সেটির মাথা দিয়ে তার সবজি খেতে একটি কাকতাড়ুয়া বানিয়ে রাখে। একবার এক নারী দেংজার সবজি বাগানে ঢুকে যখন সবজি চুরি করছিলো ঠিক তখনই সেই মৃত গরুর মাথাটি সেই নারীর উদ্দেশ্যে বলে উঠলো, ‘সাবধান! চুরি করো না। তুমি কি জান আমিই রাকদার বাবা। রাকদার ঝুড়ি থেকে চাল চুরি করার শাস্তি হিসেবে দিংগিপা বাহবরা আমাকে গরু শাস্তিস্বরূপ গরু হিসেবে পূনর্জন্ম দিয়েছেন। আমার ছেলের ধানক্ষেতেই আমি পাঁচ বছর হালচাষ করে মৃত্যুবরণ করেছি। কিন্তু আমার চুরির শাস্তি এখনো শেষ হয়নি। তাই মৃত হয়েও আমি তার সবজি বাগান পাহারা দিচ্ছি।’

নারী ভীষণ ভয় পেয়ে গেল। এবং দৌঁড়ে গিয়ে দেংজাকে সব খুলে বললো। পর দিন দেংজা সেই গরুর মাথাটিকে আগুনে পুড়িয়ে ফেললো এবং রাতে স্বপ্নে দেখলো তার বাবা তাকে জিজ্ঞেস করছে, ‘তুমি আমাকে পুরোপুরি ক্ষমা করে দিয়েছ দেংজা?’ দেংজাও বললো, ‘হ্যাঁ, বাবা আমি তোমাকে পুরোপুরি ক্ষমা করে দিয়েছি।’ এরপর থেকে দেংজাও নিজের মধ্যে শান্তি অনুভব করতে থাকলো এবং ভবিষ্যতে সে কোনোরকম কোনো বিপদের সম্মুখীন হয়নি।

গল্প বলেছেনঃ সুবন মারাক আজিম, চন্দ্রকোনা, হালুয়াঘাট, ময়মনসিংহ

বামন দম্পতি

 এক সময় আচিক আসং এর গভীর বনে পাহাড়ের গুহায় একদল বামন বাস করতো। আচিকরা তাদের বলতো টোটেং। এই টোটেংদের অতিপ্রাকৃত ক্ষমতা ছিলো। মন্ত্রবলে এবং কিছু কিছু লতাপাতার সাহায্যে এই বামনদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারতো মানুষ। এই বামনরা অনেক বড় বড় পাথর এবং ভারী জিনিস অনায়াসে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় স্থানান্তর করতে পারতো কিন্তু তাদের আরেকটি সীমাবদ্ধতা ছিলো অনেক ছোট ছোট জিনিস যেমন কচু গাছের একটি পাতাও সরানোর মত ক্ষমতাও তাদের থাকতো না। কখনো কখনো বাঘও তাদের খেয়ে ফেলতো।

একবার এক বামন দম্পতি নদীর তীরে ছোট-বড় পাথরের ফাঁকে তাদের সন্তানকে হারিয়ে ফেলে। কিন্তু এক লোক পাথরের মধ্যে বুনো গাছের শিকড় খুঁজতে গিয়ে সেই বামন দম্পতির বাচ্চাটিকে দেখতে পায়। বামনদের দুর্বলতার কথা জেনে সেই লোকটি একটি কচু গাছের পাতা দিয়ে বাচ্চাটিকে ঢেকে রাখে এবং পাশের বনের মধ্যে লুকিয়ে দেখতে থাকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই বামন দম্পতি পাথরের মধ্যে খুঁজতে খুঁজতে তাদের বাচ্চাটিকে পেয়ে যায় কিন্তু কচু গাছের পাতার বাচ্চাটির উপরে থাকার কারণে কোনোভাবেই সেটি সরিয়ে বাচ্চাটিকে নিতে পারছিলো না। কিছুক্ষণ পর সেই গরীব লোকটি বামন দম্পতির সামনে এসে তাদের কাছে প্রস্তাব রাখলো, ‘তোমাদের সন্তানকে উদ্ধার করে দিতে পারি যদি আমাকে পর্যাপ্ত পরিমাণ দরকারি জিনিস দিয়ে সহযোগীতা করতে পার।’

সন্তানকে ফিরে পাওয়ার জন্য বামনরা মুহূর্তেই তার শর্ত মেনে নিলো এবং তাকে পর্যাপ্ত টাকা, মূল্যবান জিনিস এবং প্রয়োজনীয় কাপড় দিয়ে সহযোগীতা করার প্রতিশ্রুতি দিলো। লোকটি একটু সামনে হেঁটে গিয়ে একটি শিরিষ গাছের ডাল ভেঙ্গে আনলো এবং সেই ডাল দিয়ে কচু পাতাটিকে সরিয়ে দিল। বামন দম্পতি তাদের সন্তান ফিরে পেয়ে সেই গরীব লোকটি এত ধনসম্পদ দিলো যে, পরবর্তীতে সেই লোকটিকে আচিক আসং এর একজন ধনী লোক হিসেবে গারোরা সম্মান দিত।

গল্প বলেছেনঃ শ্যানন সাংমা তেগিটিডি, দিংগ্রেং বাউয়েগিরি, গারো পাহাড়  

প্রথম পর্ব পড়তে ক্লিক করুন

Facebook Comments

comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

scroll to top