নির্বাচিত বই ।। গাঙকুমারী ।। সাধনা আহমেদ

গাঙকুমারী
বইয়ের ধরনঃ নাটক
প্রকাশনীঃ বাংলাপ্রকাশ
প্রচ্ছদ শিল্পীঃ ধ্রুব এষ

বইয়ের ফ্ল্যাপ থেকেঃ
গাঙকুমারীর ত্রিস্তর বয়ানের প্রতিটিতে ছড়িয়ে আছে বহুস্বর-বাচকতার ঐশ্বর্য। বাঙলা নাটকে এমনটি দুর্লক্ষ্য। এতে বিধৃত আখ্যানের প্রতিপাদ্য স্থানিক মানুষের সঙ্কট-সংগ্রাম-যন্ত্রণা এমন কি জীবনের অšতরালের যাপনসত্য গভীর ও অনেকাšত সমগ্রতায় উত্তরিত। নাট্যকার দেখিয়েছেন ‘রূপমতিচর’ নামে বাংলাদেশের এক প্রত্যšত ভূখন্ডের অ¯িতত্বকাতর মানুষদের; কিন্তু যে বিশ্বদৃষ্টির প্রক্ষেপণ এতে ঘটিয়েছেন, তাতে সেই নদীবর্তী স্থানটি হয়ে উঠেছে সমগ্র পৃথিবীর মানবসংগ্রামের এক মহারূপক। গত শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে ফ্রিডরিখ নিৎশের প্রেরণা থেকে যে নিষ্ঠুরতার নাট্যকলার আবির্ভাব ও বি¯তার ঘটেছিল ইউরোপে, গাঙকুমারীতে চিত্রিত সহিংসতায় তা ভিন্ন মাত্রায় পল্লবিত। পাশাপাশি প্রাসঙ্গিক হয়ে এসেছে প্রেম, যাতে প্রকাশ পেয়েছে নতুন জগত নির্মাণের স্বপ্ন। স্বভাবে বিচিত্র ও সংগ্রামশীল মানুষের এক অনিঃশেষ ভ্রমণের ভেতর থেকে সাধনা আহমেদ তুলে এনেছেন বাংলাদেশ নামের ছোট্ট এই গ্রহের এক ক্রান্তিকালে, যখন সর্বব্যাপী অন্ধকারেও আলোর রেখা জেগে ওঠে। ভাষার সাঙ্কেতিকতায় বর্ণনার পরতে পরতে যে অর্থ ও সৌন্দর্য সঞ্চারিত হয়েছে, তা এই নাটকের আরেকটি লক্ষযোগ্য প্রাšত।

নাট্যকারের কথাঃ
নিঃসৃত হৃদয়…
২০০৮ সালে নাটক দমের মাদার রচিত হবার পর কোনো এক মধ্যারাতে গাঙকুমারী সৃষ্টোন্মুখ ধমনী যখন উত্তাল হলো-তখন তার দুটি ব্রহ্মপুত্রআঁখি দেখতে পেয়েছিলাম। সে তো নারী-তার আঁখি কেন ব্রহ্মপুত্ররূপ! অšতর মেলে দেখি মেঘানার বৈশাখী ঝড়ের তান্ডবে দুঃখিনী সেই আঁখি। এই আঁখি কোন নারীর ? কে সে? নাম কী তার ? তবে সে কি আমিই! না-সে অঞ্জলি। অঞ্জলি কে ? হয়তো অঞ্জলি কেউ নয়- আবার পৃথিবীর সব নারীই হয়তো অঞ্জলি। যে কেউ নয়-তারও তো কেউ না কেউ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা থাকে-থাকে নাকি! এমন সংসয়পূর্ণ-ভাবনারা ঘুরপাক খায় করোটির ভেতর। গাঙকুমারী সৃষ্টিনিমিত্য আমি গর্ভধারণ করি-পরবর্তী ষরত্রিংশ ঋতু পাঁজরের খাঁচায় সে আটকে থাকে নিঃশব্দে। আমি ব্যাকুল হই কিন্তু জমাট বাঁধে না গাঙকুমারী-জন্মজল না পাওয়া ডিম্বানুর মত ঝরে যায়। মাঝেমধ্যেই আষাঢ়-শ্রাবণের একেকটি বর্ষণমূখর রাত পূর্ণিমা আর অমাবশ্যা ফেলে যায় অঞ্জলির জটামেঘের দীর্ঘ কেশ-টেপা পুতুলের কোমর- বাম হাতে ঘূর্ণমান লাঠির সাঁই সাঁই শব্দের সাথে আমার শৈশবের চলিষ্ণু ছবি। আরও কত বৈশাখ চৈত্র পেরিয়ে যায়-একে একে লেখা হয় ছয়টি নাটক কিন্তু গাঙকুমারী ধরা দেয় না। অšতর ফেলি শৈশবের সেই ছবির ওপর-চমকে উঠি আজকের আমি-দেখি-তখনকার পানাউল্লারচর-গাজিরট্যাক-শম্ভূপুর-শিবপুর- কালিকাপ্রসাদের সাথে সম¯ত পৃথিবী একাকার হয়ে গিয়ে মেঘনা ও ব্রহ্মপুত্রের জলরাশি ভেদ করে জেগে ওঠে রূপমতিচর নামের এক নতুন ভূখন্ড আর মানুষের মুখ। অঞ্জলির মুখ। তাতে ধরা পড়ে রাষ্ট্র ও সমাজকাঠামো অšতর্গত জীবন তার অর্থ এবং অর্থহীনতা। কিন্তু আমি বড় করে দেখতে চাই মানুষের সম্ভাবনাকে যা অফুরšত-কোনো ঘটনা বা দৈবক্রমে তা নিঃশেষিত হবার নয়। এই ভূখণ্ডের যে রাজনৈতিক সামাজিক অর্থনৈতিক জীবন তার চলিষ্ণুতার দৃশ্যরাশি থেকে আমি একটি রূপক সৃষ্টি করতে চেয়েছি মাত্র। মানুষকে মানুষের মতো করে উলব্ধি করবার ভাষা খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করেছি। বাকিটুকু পাঠক বিচার করবেন।
এই নাটক মঞ্চস্থ করার দণ্ডপ্রাপ্ত হবেন যিনি-তিনি যেন সত্যভ্রষ্ট না হোন তাঁর জন্য এই প্রার্থনা রইল।

Facebook Comments

comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

scroll to top