নির্বাচিত বই ।। স্যাম চাচাকে লেখা মান্টোর চিঠি ।। অনুবাদঃ সালেহ ফুয়াদ

স্যাম চাচাকে লেখা মান্টোর চিঠি
মূল: সাদত হাসান মান্টো
অনুবাদ: সালেহ ফুয়াদ
প্রচ্ছদ: ধ্রুব এষ
প্রকাশক: ঐতিহ্য

বই সম্পর্কে
স্বদেশ থেকে উন্মূলিত ও সর্বার্থে বিপন্ন একজন মানুষের সামনে পায়ের নিচে একটুখানি মাটি পাওয়ার সুযোগ আসা সত্ত্বেও কেউ যখন তা গ্রহণ না করেন, তখন হিসেবি লোকদের কাছে তাকে বেহিসেবি মনে হওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু মনুষ্য-সমাজে সংখ্যায় নগণ্য হলেও এমন কিছু মানুষ থাকেন যারা ওই ‘স্বাভাবিকতা’ বহির্ভূত। সাদত হাসান মান্টো সেই ব্যতিক্রমীদের একজন। ক্ষতাক্ত স্বাধীন ভারতের দুই অঞ্চলেই তখন মুহাজির-অমুহাজির উভয় শ্রেণির বহু মানুষের মধ্যে চলছিল জমি দোকানপাট কলকারখানা দখলের কাড়াকাড়ি। মান্টোকে বলা হলেও এই কাড়াকাড়িতে তাঁর মন সায় দেয়নি। তারপর সুযোগ আসে একেকটা লেখার বিনিময়ে পাঁচশো করে টাকা পাওয়ার। মান্টো তখন নিঃসীম দারিদ্র্যে দিশেহারা। পরিবারের গ্রাসাচ্ছাদনের কোনও ব্যবস্থা নেই। অথচ  সুযোগটা তিনি গ্রহণ করলেন না৷ নাকি করলেন? বিচারের ভার পাঠকের ওপর ছেড়ে দিয়ে শুধু ঘটনাটা বিবৃত করা যাক।

বিশ্বমোড়ল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খবরদারি প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড স্টেট ইনফরমেশন সার্ভিস। একদিন লাহোর অফিসের এক কর্তা মিস্টার স্মিথ মান্টোর ডেরায় এসে প্রস্তাব দিলেন তাদের ম্যাগাজিনে তিনি যেন কিছু লেখা দেন। প্রতিটি লেখার দক্ষিণা পাঁচশো রুপি। মান্টো দুশোর বেশি নেবেন না। ঝুলোঝুলির পর রফা হল তিনশো রুপিতে। মান্টো তাঁর লেখায় গ্রহণ করলেন চিঠির ফর্ম৷ কোনও এক স্যাম চাচাকে সম্বোধন করে লেখা সেই চিঠি ।

না, স্যাম চাচা ঠিক অনির্দিষ্ট কোনও একজন লোক নয়। রক্ত-মাংসের বাস্তব মানুষ৷ নাম স্যামুয়েল উইলসন, মোড়ক-দেওয়া মাংস বিক্রেতা৷ বিশ্বযুদ্ধ তাকে বিখ্যাত করে তোলে। এমনকী মার্কিন সরকারের কাছেও। মান্টো প্রথম যে-লেখাটি খামে ভরে মার্কিন দপ্তরে নিয়ে গেলেন তা ওই আঙ্কল স্যাম বা স্যাম চাচাকে লেখা একটা চিঠি। ওই চিঠিতে মান্টো মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের মুখোশ উন্মোচন করেছেন। দেখিয়েছেন তথাকথিত সভ্যতার আড়ালে দাঁত-নখ বের-করা এক বীভৎস রূপ৷ স্যাম চাচা হয়ে যায় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের প্রতীক৷ এরপর মান্টো তাকে আরও আটটি চিঠি লেখেন৷ কী বলা যাবে একে? পাগলামি, না ত্যাড়ামি? চরম দারিদ্র্যের মধ্যেও নিজের শিল্পীসত্তাকে মরতে না দিতে ক-জন পারেন!

বাংলা অনুবাদে মান্টোর চিঠিগুলো পড়ার সুযোগ বাংলাদেশের পাঠকেরা বোধকরি এই প্রথম পেলেন৷ যারা এই বিরল মানুষটিকে জানেন তারা চিঠিগুলো থেকে মান্টোর ভিন্ন এক সত্তার পরিচয় পাবেন আশা করি।
   —হাবিব আর রহমান

সালেহ ফুয়াদ:
প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক সালেহ ফুয়াদের জন্ম ১৯৯৫ সালের ১০ই জানুয়ারি সুনামগঞ্জে। বেড়ে উঠেছেন সিলেট শহরে। তিনি আরবি, উর্দু ও ইংরেজি থেকে অনুবাদ করে থাকেন সচরাচর। পদ্মভূষণ প্রাপ্ত বিখ্যাত ভারতীয় পণ্ডিত মওলানা ওয়াহিদুদ্দিন খানের ‘সালমান রুশদি ও মিছিলের রাজনীতি’(চৈতন্য, একুশে বইমেলা-২০১৭, দ্বিতীয় সংস্করণ: একুশে বইমেলা ২০১৮) উর্দু থেকে অনূদিত তার প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ। এ বইটির অনুবাদের কারণে নানা মহলে তিনি নিন্দিত ও নন্দিত হয়েছেন৷

সালেহ ফুয়াদের অনুবাদে ২০১৮ বইমেলায় ঐতিহ্য প্রকাশনী সর্বপ্রথম বাংলায় ইনতেজার হুসেইনের গল্পসঙ্কলন প্রকাশ করে৷ ‘ইনতেজার হুসেইনের শ্রেষ্ঠগল্প’ বইটি সাহিত্যমহলে ফুয়াদের স্বচ্ছন্দ অনুবাদের নমুনা বলে স্বীকৃত হয়েছে৷ ‘স্যাম চাচাকে লেখা মান্টোর চিঠি’ তার তৃতীয় অনূদিত বই৷

Facebook Comments

comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

scroll to top