মার্কেজের সঙ্গে আলাপ ।। ভাষান্তরঃ গৌরাঙ্গ হালদার

[গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ। বিশ্ব সাহিত্যের এক অবিস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব এবং যার কাজ বিশ্ব সাহিত্যে আজ এক অমূল্য সম্পদ। বিশ্ব সাহিত্যের এমন কোন পাঠক বোধ করি পাওয়া যাবেনা যিনি তাঁর গল্পের যাদুতে বিমুগ্ধ হননি। মার্কেজের গল্পের যাদু পাঠককে সম্মোহিত করে, কিন্তু বাস্তব থেকে কোন অলীক জগতে নিয়ে তাকে আত্মবিস্মৃত করে না। বরং যে বাস্তবতায় আমরা বেঁচে আছি তা যে যাদু থেকেও অনেক বেশি বিস্ময়কর, এবং যাকে আমরা যাদু বলছি সেই যাদুর ভিত্তিভূমি যে দুনিয়াজোড়া শোষক আর শোষিতের সম্পর্কের আখ্যান –মানে, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক জমিনে মানুষের অস্তিত্বের লড়াই, টিকে থাকার সংগ্রাম, তারই মর্মস্পর্শী কাহিনি ছড়িয়ে আছে তাঁর লেখায়।
লাতিন আমেরিকার মহান এই সাহিত্যিক মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম থেকে নিজেকে কখনো বিযুক্ত করেননি। সমাজতান্ত্রিক বা এক মানবিক সমাজ নির্মাণে নিজের জায়গা থেকে সারাজীবন অক্লান্ত কাজ করে গেছেন। মানুষের বাস্তব মুক্তির সামগ্রিক প্রেক্ষিত থেকে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির সম্পর্ক বিচার করার ক্ষেত্রে মার্কেজের বিশিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী মার্কেজের এই সাক্ষাৎকারটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ‘নিউ লেফট রিভিউ’ পত্রিকায়। ১৯৮৩ সালের মার্চ -এপ্রিল সংখ্যায়। ওয়েব ম্যাগাজিন ‘জ্যাকোবিন’ ২০১৪ সালের মার্চে সাক্ষাৎকারটি পুনঃপ্রকাশ করে। বর্তমান ভাষান্তরের জন্য ‘জ্যাকোবিন’ প্রকাশিত সংস্করণ ব্যবহৃত হয়েছে। মার্কেজের জন্মবার্ষিকী ছিল ৬ মার্চ। তাঁর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ‘লেখালেখির উঠান’এর পাঠকদের জন্য সাক্ষাৎকারটির অনুবাদ পেশ করা হল।]

নিউ লেফট রিভিউ
আপনার রাজনৈতিক ধারণা যেভাবে বিকশিত হয়েছে সেদিকে আমরা কি একটু ফিরে দেখতে পারি? আপনার বাবা একজন কনজারভেটিভ। কলম্বিয়া ১৮১৯ সালে স্পেন থেকে স্বাধীন হওয়ার পরে একশ বছর অভ্যন্তরীণ গৃহযুদ্ধের ভেতর দিয়ে গেছে। ১৮ শ চল্লিশের দশকে দু’টি রাজনৈতিক দল গড়ে উঠেছেঃ কনজারভেটিভ –যাদের প্রথাগত দর্শনের ভিত্তি ছিল পরিবার, চার্চ ও রাষ্ট্র। এবং লিবারেল –যারা ছিলেন মুক্ত চিন্তক, যাজকতন্ত্র-বিরোধী, এবং অর্থনৈতিক উদারবাদী।
এই দুই দলের মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চলেছিল এক হাজার দিন ব্যাপি (১৮৯৯-১৯০২)। যা দেশকে দেউলিয়া করে দেয় এবং তাকে রেখে যায় এক ধ্বংসস্তুপের ভেতরে। কলম্বিয়ায় আমরা বলে থাকি, কনজারভেটিভ বা লিবারেল হওয়াটা নির্ভর করে আপনার বাবা কী তার উপরে। কিন্তু স্পষ্টতই আপনার রাজনীতিতে এটা একেবারেই প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। যেহেতু আপনি একদম শুরু থেকেই বামপন্থা বেঁছে নিয়েছিলেন। আপনার এই রাজনৈতিক অবস্থান কি আপনার পরিবারের বিরুদ্ধে একটা প্রতিক্রিয়া ছিল?
গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ
ঠিক ঐভাবে পরিবারের বিরুদ্ধে নয়। কেননা আপনার অবশ্যই মনে থাকার কথা যে, যদিও আমার বাবা কনজারভেটিভ ছিলেন, কিন্তু আমার কর্নেল পিতামহ ছিলেন একজন লিবারেল। যেহেতু, আমি যখন তরুণ ছিলাম তখন আমাকে রূপকথার গল্প শোনানোর পরিবর্তে – আমার রাজনৈতিক ধারণাগুলো সম্ভবত তাঁর কাছ থেকেই এসেছিল। তিনি আমাকে সবশেষ গৃহযুদ্ধের ভয়ংকর সব ঘটনাবলী বর্ণনা করে আমার গল্প শোনার আকাঙ্খা মেটাতেন। সেটা ছিল কনজারভেটিভ সরকারের বিরুদ্ধে মুক্ত চিন্তক ও যাজকতন্ত্র -বিরোধীদের আন্দোলন। আমার পিতামহ আমাকে কলাচাষি শ্রমিকদের নির্মম হত্যাকান্ড সম্বন্ধেও বলেছিলেন। এটা আরাকাতাকাতেও হানা দিয়েছিল যা ছিল আমার জন্মের একই বছরে। তাহলে আপনি বুঝতেই পারছেন যে আমার পরিবার আমাকে বহাল শাসনব্যবস্থার দিকে ধরে রাখার চাইতে বরং বিদ্রোহের দিকে যেতেই প্রভাবিত করেছিল।
রিভিউ
আপনি কখন এবং কোথায় প্রথম রাজনৈতিক লেখা পড়েছিলেন?
মার্কেজ
জিপাকুইরায়, আমার মাধ্যমিক স্কুলে। সেই স্কুলে যেসব শিক্ষক ছিলেন তারা শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজে একজন মার্কসবাদী শিক্ষক দ্বারা প্রশিক্ষিত হয়েছিলেন। সেটা ছিল প্রেসিডেন্ট আলফোনসো লোপেজ এর বামপন্থী সরকারের সময়ে। গণিতের শিক্ষক বিরতির সময়ে ঐতিহাসিক বস্তুবাদের উপরে ক্লাসে আমাদেরকে সময় দিতেন। রসায়নের শিক্ষক লেনিনের বই ধার দিতেন। এবং ইতিহাসের শিক্ষক আমাদেরকে বলতেন শ্রেণি সংগ্রাম সম্বন্ধে। আমি যখন প্রচণ্ড ঠাণ্ডা কারাগার থেকে বেরোলাম, আমার কোন ধারণাই ছিল না যে কোনদিক উত্তর আর কোনদিক দক্ষিণ। কিন্তু আমার দু’টো শক্তিশালী প্রত্যয় ছিল। একটি হচ্ছে, ভাল উপন্যাস অবশ্যই বাস্তবতার কাব্যিক পক্ষান্তর হবে। এবং অন্যটি হচ্ছে, মানুষের আশু ভবিষ্যৎ সমাজতন্ত্রে।
রিভিউ
আপনি কি কখনো কমিউনিস্ট পার্টিতে ছিলেন?
মার্কেজ
আমার বয়স যখন বিশ বছর তখন অল্প কিছু সময়ের জন্য ছিলাম। তবে আমার মনে পড়ে না যে আমি গুরুত্বপূর্ণ কিছু করেছিলাম কিনা। সত্যিকার একজন মিলিট্যান্টের চাইতে আমি ছিলাম বেশি সহানুভূতিসম্পন্ন। তখন থেকেই কমিউনিস্টদের সাথে আমার সম্পর্কের বহু চরাই উৎরাই গেছে। আমরা প্রায়ই স্থুলবুদ্ধির খপ্পরে পড়তাম, কারণ যতবারই আমি একটা অবস্থান নিতাম তারা তা পছন্দ করতো না। তাদের খবরের কাগজ সত্যিই একবার আমাকে নিয়ে লিখেছিল। কিন্তু জনসম্মুখে আমি কখনো তাদের অভিযুক্ত করিনি। এমনকি সবচেয়ে খারাপ সময়েও না।
রিভিউ
১৯৫৭ সালে আপনি এবং আমি একসাথে পূর্ব জার্মানি ভ্রমণ করেছিলাম। আমরা যা দেখেছিলাম তা আমরা পছন্দ করিনি। তা সত্ত্বেও আমরা আমাদের আশা সমাজতন্ত্রে ধরে রেখেছিলাম। সেই ভ্রমণ কি আপনার রাজনৈতিক প্রত্যয়ে কোন পরিবর্তন ঘটিয়েছে?
মার্কেজ
সেই ভ্রমণ আমার রাজনৈতিক ধারণাগুলোকে বেশ জোরালোভাবেই প্রভাবিত করেছিল। আপনি যদি একটু পেছনে ভেবে দেখেন, আমি তখন বোগোটা ম্যাগাজিনে নিবন্ধের একটা সিরিজের জন্য সেই ভ্রমণের কথা রেকর্ড করিয়েছিলাম। নিবন্ধগুলোর স্বত্ব লঙ্ঘন করা হয় এবং প্রকাশিত হয় প্রায় বিশ বছর পরে –না, আমার ধারণা, তা সাংবাদিকতা অথবা যে কোন রাজনৈতিক স্বার্থের ভেতর থেকে, কিন্তু তা আমার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক বিকাশে ধরে নেয়া বৈপরীত্য হিসেবে দেখাতে।
রিভিউ
সেখানে কি কোন বৈপরীত্য ছিল?
মার্কেজ
না, ছিল না। আমি সেই বই আইনসঙ্গত করেছি এবং আমার সমগ্র কাজের ভ্যলুমে অন্তর্ভুক্ত করেছি। যা এখন জনপ্রিয় সংস্করণে কলম্বিয়ার প্রতিটি রাস্তার মোড়ে মোড়ে বিক্রি হয়। আমি একটা শব্দও পরিবর্তন করিনি। অধিকন্তু আমার মনে হয় বর্তমান পোলিশ সঙ্কটের উৎসের একটা ব্যাখ্যা সেইসব নিবন্ধগুলোতে পাওয়া যাবে। যাকে তখনকার মতান্ধরা বলেছিল যে এগুলোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র আমাকে টাকা দিয়েছে। আশ্চর্যের ব্যাপার হল সেইসব মতান্ধরা, আজ চব্বিশ বছর পরে, বুর্জোয়াদের রাজনৈতিক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠার আরামদায়ক চেয়ারে বসে আছে। আর ইতিহাস আমাকে এখন সঠিক প্রমাণ করছে।
রিভিউ
তথাকথিত ‘জনগণের গণতন্ত্র’ নিয়ে আপনার ভাবনা কী ছিল?
মার্কেজ
ঐ নিবন্ধগুলোর একটা কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত ছিল এই যে, ‘জনগণের গণতন্ত্রী’রা প্রমাণিতরুপে সমাজতন্ত্রী ছিলেন না, বা তারা যে পন্থায় ছিল তা যদি অনুসরণ করে তাহলে কোনদিনই তারা তা হতে পারবে না। কারণ সেই ব্যবস্থাতন্ত্র প্রতিটি দেশের নির্দিষ্ট শর্তাবলীর কর্তৃত্ব উপলব্ধি করতে পারেনি। এই ব্যবস্থাতন্ত্র ছিল মতান্ধ এবং বদ্ধচিন্তার স্থানীয় কমিউনিস্ট পার্টিগুলোর ভেতর দিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন কর্তৃক বাইরে থেকে আরোপিত। তাদের একমাত্র ভাবনা ছিল সমাজে সোভিয়েত মডেল প্রয়োগ করা। এমন কি যদি তা সেই সমাজে না-ও খাটে।
রিভিউ
এবার চলুন কিউবান সংবাদ সংস্থা ‘প্রিন্সা ল্যাটিনা’য় আমাদের একই অভিজ্ঞতার দিনগুলোতে যাওয়া যাক। পুরনো কিউবান কমিউনিস্ট পার্টি যখন বিপ্লবের অনেক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করে তখন আমরা দু’জনেই পদত্যাগ করেছিলাম। আপনি কি মনে করেন যে আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম? অথবা আপনার কি মনে হয় যে, তা ছিল একটা দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্যে কিছুটা আটকে যাওয়া মাত্র, যাকে আমরা সেভাবে দেখতে ব্যর্থ হয়েছি?
মার্কেজ
আমি মনে করি আমাদের প্রিন্সা ল্যাটিনা ছাড়ার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। আমরা যদি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সেখানে থেকে যেতাম, তাহলে প্রতিবিপ্লবী, সাম্রাজ্যবাদের সেবাদাস সহ আরো অনেক রকমের গালাগালি থেকে কপালে একটা ছাপ নিয়ে আমাদের বিদায় হওয়া লাগতো। সে সময়ে মতান্ধরা তো ওগুলো নিয়ে আপনার পেছনেও লেগে থাকতো। আপনি যদি মনে করে দেখেন, আমি যা করেছিলাম –একটা পার্শ্বরাস্তায় নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলাম। আমি যখন মেক্সিকোতে আমার ফিল্মস্ট্রিপ এবং বইগুলো লিখছিলাম তখন খুব নিবিড় এবং সতর্কভাবে কিউবান প্রক্রিয়ার বিবর্তন পর্যবেক্ষণ করেছিলাম।
আমার দৃষ্টিভঙ্গি ছিল যে, বিপ্লব যদিও প্রাথমিক ঝড়ো উত্থানের পরে কখনো কখনো কঠিন এবং পরস্পর বিরোধী পন্থা নিচ্ছিল, তবে তখনো তা এক সমাজ ব্যবস্থার প্রস্তাবনা তুলে ধরছিল যা অনেক বেশি গণতান্ত্রিক, ন্যায়সঙ্গত এবং আমাদের প্রয়োজনের সাথে অনেক বেশি উপযুক্ত।
রিভিউ
আপনি কি নিশ্চিত? অভিন্ন কারণ কি অভিন্ন ফলাফল উৎপাদন করেনা? কিউবা যদি সোভিয়েত ব্যবস্থাকে একটা মডেল হিসাবে গ্রহণ করে (একদলীয় রাষ্ট্র, গণতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতা, সরকার নিয়ন্ত্রিত ইউনিয়ন, জনসাধারণের উপরে নিরাপত্তা সংস্থার কঠোর নিয়ন্ত্রণ), তাহলে তা কি সেই “ন্যায্য গণতান্ত্রিক শাসন” অর্জনের মত কঠিন হবে না, সোভিয়েত ইউনিয়নে ঠিক যেমন হয়েছে? এ ব্যাপারে আপনি কি শঙ্কিত নন?
মার্কেজ
এই বিশ্লেষণে যে সমস্যা তা হল এর উৎক্রমণের প্রশ্ন। আপনি যে সিদ্ধান্ত থেকে শুরু করেছেন তা হল কিউবা সোভিয়েতের একটি স্যাটেলাইট এবং আমি তা মনে করি না। আমি মনে করি কিউবান বিপ্লব বিশ বছরের জন্য একটি জরুরি অবস্থার মধ্যে ছিল। ধন্যবাদ যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুতা এবং তার বুঝতে না পারা কে। যারা ফ্লোরিডা উপকূল থেকে মাত্র নব্বই মাইল দূরে একটি বিকল্প সরকার ব্যবস্থা সহ্য করতো না।
এটা সোভিয়েত ইউনিয়নের দোষ নয়। তাদের (লক্ষ্য উদ্দেশ্য যা-ই হোক না কেন) সহযোগিতা ছাড়া কিউবার বিপ্লব আজ টিকে থাকত না। শত্রুতা যখন পায়ে পায়ে তখন কিউবার পরিস্থিতি বিচার করা যেতে পারে কেবল মাত্র জরুরি অবস্থার প্রেক্ষিতে। যা তাদের স্বার্থের স্বাভাবিক ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক এবং সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের বাইরে এনে প্রতিরোধমূলক ভূমিকার দিকে চালিত করেছে। পরিস্থিতি যখন স্বাভাবিক হয়ে আসবে তখন এ নিয়ে আমরা আবার আলাপ করতে পারব।
রিভিউ
১৯৬৮ সালে চেকশ্লোভাকিয়ায় সোভিয়েত হস্তক্ষেপকে ফিদেল ক্যাস্ট্রো সমর্থন করেছিলেন (এটা সত্য যে নির্দিষ্ট সংরক্ষণের সাথে)। আপনি কী অবস্থান নিয়েছিলেন?
মার্কেজ
আমি তখন গণপ্রতিবাদের আয়োজন করেছিলাম। এবং আবার যদি সেই একই পরিস্থিতি দেখা দেয় আমি আবার একই কাজ করব। ফিদেল ক্যাস্ট্রো এবং আমার অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য কেবল এই যে, তিনি শেষ পর্যন্ত সোভিয়েত হস্তক্ষেপকে ন্যায্যতা দিয়েছেন আর আমি তা কখনোই করবো না। যাই হোক, জনগণের গণতন্ত্রের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে তিনি তাঁর বক্তৃতায় যে বিশ্লেষণ করেছিলেন তা আমার নিবন্ধে করা বিশ্লেষণের চাইতে অনেক বেশি বিচারমূলক এবং শক্তিশালী ছিল। যে কোন ক্ষেত্রে, ল্যাটিন আমেরিকার ভবিষ্যৎ হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড অথবা চেকশ্লোভাকিয়ায় যেমন হয়েছে তেমন নয় বা হবে না, কিন্তু ল্যাটিন আমেরিকার ভবিষ্যৎ তার নিজের হাতে। অন্যকিছু নিয়ে ভাবতে গেলে তা হবে ইউরোপীয় সংস্কার। এবং আপনার কিছু রাজনৈতিক প্রশ্নে এই সংস্কারের আভাস রয়েছে।
রিভিউ
সত্তুরের দশকে কিউবান কবি হিবের্তো পাদিল্লা’র বিখ্যাত আত্ম-সমালোচনার পরে, পাদিল্লা তাঁর কাজে “সন্দেহজনক” রাজনৈতিক মনোভাবের আলাপ করার ফলে নিরাপত্তা পুলিশের হাতে আটক হয়েছিলেন এবং মাস খানেক পরে জনসমক্ষে প্রতিবিপ্লবী প্রবণতার কথা স্বীকার করে ছাড়া পান। এই ঘটনায় ল্যাটিন আমেরিকান এবং ইউরোপীয় বুদ্ধিজীবীরা সমালোচনার ঝড় তোলেন। ঘটনাটিকে দেখা হয় বিপ্লব ও লেখকদের সম্পর্কের মাঝে বিভাজন রেখা হিসেবে। হয় প্রচ্ছন্ন স্ট্যালিনবাদের আবির্ভাব হিসেবে, না হয় দখলে রাখা বিপ্লবের পাশে দাঁড়ানোর ব্যাপারে বুর্জোয়া বুদ্ধিজীবীদের বিশ্বাসঘাতকতার প্রমাণ হিসেবে। আমি নিজে এবং আপনার কিছু বন্ধু –আমরা কিউবান শাসক শক্তি থেকে নিজেদের দূরে রেখেছিলাম।
আপনি তা করেননি। আমরা প্রতিবাদের যে টেলিগ্রাম পাঠিয়েছিলাম তাতে আপনি সই করেননি। আপনি কিউবা ফিরে গিয়েছিলেন এবং ফিদেলের বন্ধু হন। কী আপনাকে কিউবান সরকারের প্রতি এই সমর্থনযোগ্য মনোভাব গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করেছিল?
মার্কেজ
যা ঘটেছিল সে সম্বন্ধে ইতিবাচক তথ্য এবং একটি পরিণত রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, যা আমার জন্য পরিস্থিতিকে আরো বেশি শান্তভাবে, ধৈর্য এবং মানবীয় উপলব্ধির সাথে দেখতে সম্ভব করেছিল।
রিভিউ
ল্যাটিন আমেরিকায় আপনার পাশাপাশি বহু সংখ্যক লেখক কাঙ্খিত বিকল্প হিসেবে সমাজতন্ত্রের (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) কথা বলেন। আপনার কি মনে হয়না যে, এটা একপ্রকার ‘সেকেলে’ সমাজতন্ত্র? সমাজতন্ত্র এখন আর কোন মহৎ অমূর্তায়ন নয়। কিন্তু তা এখন এক আকর্ষণহীন বাস্তবতা। আপনি কি একমত যে, পোল্যান্ডে যা ঘটেছে তারপর কেউ আর বিশ্বাস করে না যে ঐ সমস্ত দেশে শ্রমিক শ্রেণি ক্ষমতায় আছে?
ক্ষয়িষ্ণু পুঁজিবাদ ও ক্ষয়িষ্ণু সমাজতন্ত্রের মাঝে আমাদের মহাদেশের জন্য আপনি কি তৃতীয় কোন বিকল্প দেখতে পান?
মার্কেজ
আমি কোন তৃতীয় বিকল্পে বিশ্বাস করি না। আমি বিশ্বাস করি এখানে অনেক বিকল্প আছে। যুক্তরাষ্ট্র সহ আমাদের আমেরিকায় যতগুলো রাষ্ট্র আছে, সম্ভবত ততগুলো বিকল্প আছে। আমি মনে করি যে আমাদের নিজস্ব সমাধান খুঁজে নিতে হবে। অন্যান্য দেশ তাদের ইতিহাসের দীর্ঘ যাত্রায় যা অর্জন করেছে সেখান থেকে আমরা নিজেদের যেখানটায় সম্ভব সমৃদ্ধ করতে পারি। কিন্তু অবশ্যই আমরা যান্ত্রিকভাবে তাদের নকল করতে পারিনা যা এখনো পর্যন্ত আমরা করছি। এভাবে ঘটনাক্রমে আমরা আমাদের সমাজতন্ত্রের নিজস্ব পরিচিতি অর্জন করতে পারি।
রিভিউ
অন্যান্য বিকল্পের কথায়, ল্যাটিন আমেরিকায় মিত্তেরান্দ এর সরকারকে কী ভূমিকা পালন করতে দেখছেন?
মার্কেজ
সম্প্রতি মেক্সিকোতে এক মধ্যাহ্নভোজে প্রেসিডেন্ট মিত্তেরান্দ কয়েকজন লেখককে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, “আপনারা ফ্রান্সের কাছ থেকে কী প্রত্যাশা করেন?” তাদের জবাব যে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল তা হচ্ছে কে কার প্রধান শত্রু সেই দিকে। ইউরোপিয়ানরা তখন টেবিলে। তারা অনেকটা নিশ্চিত ছিল যে ইয়াল্টা স্টাইলে নতুন দুনিয়ার রূপ দিতে তারা একদম কিনারায় আছে। তারা বললো যে, তাদের প্রধান শত্রু ছিল যুক্তরাষ্ট্র। আমি প্রেসিডেন্টের প্রশ্নের জবাব দিলাম এই বলে যে, “যেহেতু আমাদের প্রত্যেকেরই পয়লা নম্বরের শত্রু আছে, ল্যাটিন আমেরিকায় আমাদের যা দরকার তা হল পয়লা নম্বরের বন্ধু। সমাজতন্ত্রী ফ্রান্স সেই বন্ধু হতে পারে।”
রিভিউ
আপনি কি মনে করেন –উন্নত পুঁজিবাদী দেশগুলোতে যেমন গণতন্ত্র বিদ্যমান, তেমন তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতেও সম্ভব?
মার্কেজ
উন্নত বিশ্বে গণতন্ত্র তাদের নিজস্ব উন্নয়নের ফল এবং এর উল্টোটা নয়। ল্যাটিন আমেরিকার মতো ভিন্ন সংস্কৃতির দেশগুলোতে অনুকরণ হিসেবে একে প্রতিস্থাপনের চেষ্টা অবাস্তব। যেমনটি চেষ্টা করা হয়েছিল সোভিয়েত ব্যবস্থা প্রতিস্থাপনে।
রিভিউ
তাহলে আপনি কি মনে করেন যে গণতন্ত্র উন্নত দেশগুলোর জন্য একধরণের বিলাস ব্যসন? মনে রাখুন যে, গণতন্ত্র তার সাথে মানবাধিকারের সুরক্ষা বহন করে, আপনি নিজে যার জন্য লড়াই করেছেন…
মার্কেজ
আমি গণতান্ত্রিক নীতিমালা সম্বন্ধে কথা বলছিনা। বলছি গণতান্ত্রিক রূপ (Form) সম্বন্ধে।
রিভিউ
প্রসঙ্গক্রমে, সাফল্য ব্যর্থতার প্রেক্ষিত থেকে মানবাধিকারের জন্য আপনার দীর্ঘ লড়াইয়ের ফলাফল কী?
মার্কেজ
এটা মাপা সত্যি খুব কঠিন। মানবাধিকারের ক্ষেত্রে আমার মতো লোকের কাজের সাথে কোন নির্দিষ্ট বা ত্বরিত ফলাফল নেই। এগুলো আসে অনেকগুলো ঘটনার মিশ্রণে এবং প্রায়ই আপনি যখন সবচেয়ে কম প্রত্যাশা করেন তখন, এটা অনুমান করা অসম্ভব যে আপনার নিজস্ব নির্দিষ্ট কাজের দ্বারা আপনি কতটুকু ভূমিকা পালন করলেন। আমার মত জনপ্রিয় লেখক যিনি সাফল্যের সাথে পরিচিত, তার জন্য এই কাজ অবমাননাকর অবস্থার মধ্যে এক শিক্ষা।
রিভিউ
আপনার আরব্ধ সকল কাজে কী আপনাকে সবচেয়ে বেশি তৃপ্তি দিয়েছে?
মার্কেজ
যে কাজ আমাকে ব্যক্তিগতভাবে সবচেয়ে বেশি তৃপ্তি দিয়েছে, তা ছিল নিকারাগুয়ায় স্যান্ডিনিস্তার বিজয়ের ঠিক আগে যা করেছিলাম। টমাস বোগরে –যিনি এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী – আমাকে তাঁর স্ত্রী এবং সাত বছর বয়সী মেয়ে যাতে মাঙ্গুয়ায় কলম্বিয়ান দূতাবাস ত্যাগ করতে পারে তার জন্য সোমোজার উপরে চাপ তৈরি করার ভাল একটা উপায় খুঁজে পাবার চিন্তা করতে বলেছিলেন। সেখানে তাঁরা শরণার্থী মর্যাদা চাচ্ছিলেন। সেখানকার একনায়ক শাসক তাঁদেরকে নিরাপদভাবেই প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। যেহেতু তাঁরা ছিল স্যান্ডিনিস্তা ফ্রন্টের বেঁচে থাকা শেষ প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজনের পরিবার।
টমাস বোগরে এবং আমি এই সমস্যাকে কয়েক ঘণ্টা ধরে আলোচনা করার পরে একটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এনে শেষ করতে পেরেছিলামঃ ছোট্ট মেয়েটির একসময় কিডনিতে ক্ষত হয়েছিল। আমরা একজন ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে মেয়েটির বর্তমান অবস্থা কিভাবে এই পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে পারে। এবং তাঁর উত্তর আমাদেরকে এই সমস্যা নিয়ে বাহাস করার একটা সুযোগ এনে দেয় যা আমরা খুঁজছিলাম। আটচল্লিশ ঘণ্টারও কম সময় পরে মা ও মেয়ে মেক্সিকোয় পৌঁছায়। রাজনৈতিক প্রেক্ষিত থেকে নয়, মানবিকতার ভিত্তিতে তাঁরা একে নিরাপদভাবে মঞ্জুর করেছিলেন।
অন্যদিকে আমার আত্মবিশ্বাসে ভাটা লাগানোর মত ঘটনা ছিল যখন অপহৃত হওয়া দু’জন ইংরেজ ব্যাংকারকে মুক্ত করতে সাহায্য করেছিলাম। তাঁরা অপহৃত হয়েছিলেন গেরিলাদের হাতে। ১৯৮৯ সালে এল সালভাদরে। তাঁদের নাম ছিল আইয়ান ম্যাজি ও মিশেল চ্যাটারটন। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে যাচ্ছিল। কারণ দু’পক্ষের ভেতরে কোন মতৈক্য হচ্ছিল না।
জেনারেল ওমার তোরিজো অপহৃত হওয়া লোকদের পরিবারের পক্ষ থেকে আমাকে টেলিফোন করেন এবং তাদেরকে বাঁচাতে সাহায্য করার কথা জিজ্ঞেস করেন। আমি অনেক মধ্যস্থতাকারির সাহায্যে এই বার্তা গেরিলাদের কাছে প্রেরণ করি। এবং সময় মতোই ফিরতি উত্তর আসে। আমি মুক্তিপণের ব্যবস্থা করার জন্য অতিসত্বর কথা বলার ওয়াদা করি এবং তাঁরা রাজি হয়। এরপরে আমি আন্তিবেসে বাসরত গ্রাহাম গ্রীন কে ইংরেজ পক্ষের সাথে যোগাযোগ করার জন্য বললাম।
গেরিলা এবং ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সাথে এ নিয়ে দেনদরবার চলেছিল চার মাস ধরে। চুক্তি ছিল যে গ্রাহাম গ্রীন বা আমি কেউই মূল দেনদরবারে অংশ নেব না। কিন্তু যখনই প্রক্রিয়াটা কোথাও আটকে যাবে, দু’পক্ষের যে কেউ আমার সাথে যোগাযোগ করবে এবং আলোচনাটা যাতে আবার এগিয়ে নেয়া যায় তার চেষ্টা করা হবে।
ব্যাংকাররা মুক্ত হয়েছিল। তবে না গ্রাহাম গ্রীন না আমি নিজে, ধন্যবাদের একটা শব্দ পর্যন্ত পাইনি। অবশ্যই তা খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু ছিল না। আমি বরং অবাক হয়েছিলাম। অনেক চিন্তা-ভাবনার পরে আমি একটা ব্যাখ্যায় উপনীত হলাম যে –গ্রাহাম এবং আমি বিষয়গুলো বেশ সুচারুরুপে ব্যবস্থা করেছিলাম। ফলে সেই ইংরেজরা নিশ্চয়ই ভেবেছে যে গেরিলাদের সাথে আমাদের গোপন চুক্তি ছিল।
রিভিউ
ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে অনেক লোকই আপনাকে এক ধরণের ভ্রাম্যমান দূত হিসেবে দেখে –অবশ্যই একজন স্বনামখ্যাত পরোপকারী দূত হিসেবে। আপনি ক্যস্ট্রো’র একান্ত বন্ধু। সেইসাথে আপনি পানামায় তোরিজোসের, ভেনিজুয়েলায় কার্লোস আন্দ্রেস পেরেজের, কলম্বিয়ায় আলফোনসো লোপেজ মিশেলসনের, নিকারাগুয়ায় স্যান্ডিনিস্তার বন্ধু…আপনি তাদের সবার কাছে একজন অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত পরামর্শক। কী আপনাকে এই ভূমিকা গ্রহণে অনুপ্রাণিত করেছে?
মার্কেজ
যে তিনজন ব্যক্তিকে আপনি উল্লেখ করেছেন তাঁরা ক্ষমতায় ছিলেন একই সময়ে। ক্যারিবীয়দের জন্য সেটা ছিল খুবই কঠিন সময়। তাদের একই সময়ে ক্ষমতায় থাকা ছিল দারুণ যুগপৎ সঙ্ঘটন এবং বিরাট বেদনাদায়ক ব্যাপার যে তাঁরা খুব বেশিদিনের জন্য সহযোগিতা বজায় রাখতে পারেননি। নিঃসন্দেহে তখন এই তিনজন ক্যাস্ট্রো’র সাথে এবং যুক্তরাষ্ট্রে জিমি কার্টারের মত প্রেসিডেন্টের সাথে কাজ করে এই অঞ্চলের সংঘাতগুলোকে একটা সঠিক পথে নিতে পারতেন। তাঁদের মধ্যে সে সময় ক্রমাগতভাবে খুবই ইতিবাচক সংলাপ এগুচ্ছিলো। আমি কেবল মাত্র এর প্রত্যক্ষদর্শীই ছিলাম না, যখনই সম্ভব হয়েছে আমি সহযোগিতা করেছি।
আমি মনে করি মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ (আমার কাছে তারা এক ও অভিন্ন অস্তিত্ব, আর আমি বুঝিনা যে তারা কেন একে দু’টি আলাদা জিনিস বলে) উন্নয়নের একটা পর্যায়ে পৌঁছুতে পেরেছে এবং তাদের ইতিহাসে এটা একটা পয়েন্ট যে, তারা তাদের প্রথাগত বদ্ধতা থেকে বের হয়ে আসার জন্য প্রস্তুত। তবে একইসাথে আমি মনে করি যে যুক্তরাষ্ট্র এই ধরণের যে কোন প্রচেষ্টাকে হতাশ করবে। কারণ তার মানে তাদের খুব পুরানো এবং গুরুত্বপূর্ণ সুবিধাগুলো ছেড়ে দিতে হবে।
ক্যারিবীয়দের জন্য গত কয়েক বছরে, জিমি কার্টার তার সমস্ত সীমাবদ্ধতা নিয়েও এই সংলাপে উত্তম পক্ষ ছিলেন। এবং বাস্তবিকই তোরিজোস, কার্লোস আন্দ্রেস পেরেজ এবং লোপেজ মিশেলসনের সমকালে তাঁর রাষ্ট্রপতি পদে থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। যাই হোক, এই বিশেষ পরিস্থিতি ও প্রত্যয় আমাকে তাদের সাথে কিছুটা পরিমিতভাবে যুক্ত হতে উদ্বুদ্ধ করেছিল। সাধারণভাবে এই প্রক্রিয়ার মধ্যে আমার ভূমিকা ছিল একজন অনানুষ্ঠানিক মধস্থ্যতাকারীর যা আরো অনেকদূর এগিয়ে গিয়েছিল। তবে তা এমন কোন আমেরিকান প্রেসিডেন্টের বিপর্যয়কর নির্বাচনের জন্য ছিলনা যিনি পুরোপুরি বিরুদ্ধ স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
তোরিজোস বলতেন যে আমার কাজ ছিল “গোপন কূটনীতি”। এবং তিনি প্রায়ই জনসম্মুখে বলতেন যে খারাপ খবরকে ভালো খবর বানাতে আমার নিজস্ব পন্থা ছিল। আমি কখনোই জানতে পারিনি তা কি প্রশংসা ছিল, নাকি নিন্দা ছিল।
রিভিউ
আপনার নিজের দেশে আপনি কোন ধরণের সরকার দেখতে চান?
মার্কেজ
যে কোন সরকার যা গরিব মানুষদের সুখী করতে পারবে। ঠিক এই বিষয়টির ব্যাপারে ভেবে দেখুন!

Facebook Comments

comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

scroll to top