নির্বাচিত বই ।। মেঘে ঢাকা তারা (বিস্মৃতির মেঘে ঢেকে যাওয়া বাঙালি বিজ্ঞানী)

মেঘে ঢাকা তারা (বিস্মৃতির মেঘে ঢেকে যাওয়া বাঙালি বিজ্ঞানী)

লেখক: অতনু চক্রবর্তী
বইয়ের ধরন: গবেষনা ও গল্প 
প্রকাশক: ঐতিহ্য
মূদ্রিত মূল্য: ০০
স্টল নং: —

বই সম্পর্কে
গত বছর বইমেলাতে যখন মেঘে ঢাকা তারা’ প্রথম প্রকাশিত হয়, সত্যি বলতে কি , কিছুটা শঙ্কিত ছিলাম। নতুন লেখক, তার উপরে প্রথম বই। কিন্তু আমি বিস্মিত হয়ে লক্ষ করলাম বইটি পাঠক মহলে যথেষ্ট সাড়া ফেলেছে। অনেকে বইটি কিনে পড়বার পর গুডরিডস কিংবা রকমারিতে রিভিউ দিচ্ছেন। পাঠকের এই সমাদরটুকু আমার মত নতুন লেখকের জন্য অনেকখানি অনুপ্রেরণার।

মেঘে ঢাকা তারার এই পর্বে বিস্মৃতপ্রায় আরও কয়েকজন বাঙালি বিজ্ঞানীর জীবন ও গবেষণার কথা বলার চেষ্টা করেছি। ভারতীয় উপমহাদেশে শারীরতত্ত্ব সংক্রান্ত গবেষণার পথিকৃৎ রুদ্রেন্দ্রকুমার পালের কথা বলা হয়েছে। একাত্তরে পাকিস্তান নামের ব্যর্থ রাষ্ট্রটির কুৎসিত সেনাবাহিনীর হাতে প্রাণ হারানো বাঙালি জৈবরসায়নবিদ হরিনাথ দে’র গবেষণা ও জীবন সম্পর্কে লিখেছি। বাঙালি পাখিদের নিয়ে গবেষণা করেছিলেন প্রথম যে মানুষটি – সেই সত্যচরণ লাহার জীবন সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। বেঙ্গল ফরসেপসের আবিষ্কার করে যে মানুষটি হাজার হাজার প্রসূতি মায়ের মৃত্যু রোধ করে দিয়েছিলেন – সেই চিকিৎসাবিজ্ঞানী কেদারনাথ দাসের গল্প , ফরেনসিক সায়েন্স গবেষণার পথিকৃৎ নির্মল কুমার সেন এর জীবনকাহিনী এবং ভেষজ উদ্ভিদবিদ ও রসায়নবিজ্ঞানী কানাইলাল দে এর গবেষনাকর্ম আমি তুলে ধরবার চেষ্টা করেছি। বলেছি এই উপমহাদেশে প্রথম ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ তৈরি করেও বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যাওয়া বিজ্ঞানী নীরজনাথ দাশগুপ্তের কথা।এছাড়াও তুলে ধরা হয়েছে পাবলিক হেলথ গবেষণার পথিকৃৎ চুনীলাল বসু ও মৃত্তিকাবিজ্ঞান গবেষণার প্রাণপুরুষ সুশীলকুমার মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও গবেষণাকর্ম । কিন্তু আমি নিজে মনে করি মেঘে ঢাকা তারার এই পর্ব সব থেকে উল্লেখযোগ্য অন্য আরেকটি দিক থেকে। সেটা এবার বলি।

বাঙলা ভাষায় যখন ই কেউ বিজ্ঞানীদের নিয়ে কোন লেখা লেখেন অদ্ভুতভাবে প্রায় সব লেখকই স্থাপত্য কিংবা অবকাঠামোগত প্রকৌশল ( স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং ) নিয়ে গবেষণা করা , বৈপ্লবিক সব নকশার পরিকল্পনা করা মানুষগুলিকে এড়িয়ে যান। কিন্তু শৈল্পিক সত্তা ধারণের পাশাপাশি তারা তো বৈজ্ঞানিক এক সত্তাও ধারণ করেন। বিশুদ্ধ গণিত, পদার্থবিজ্ঞান দিয়েই তো তাদের শিক্ষণের ভিত্তি গড়া হয়। আর তারা যে কাজটা করেন শিল্পের মূর্ছনার সাথে সেখানে তো বৈজ্ঞানিক প্রজ্ঞাও সূক্ষ্মভাবে মিশে থাকে। আর তাই আমি উপর্যুক্ত অন্যান্য বিজ্ঞানীদের সাথে এই পর্বে শুনিয়েছি সৈয়দ মাইনুল হোসেন ও ফজলুর রহমান খানের জীবন আর সৃষ্টির গল্প।

লেখগুলি লিখতে গিয়ে আমার নানা দেশি বিদেশি বই ও গবেষণাপত্রের সাহায্য নিতে হয়েছে। সেই সকল সহায়ক গ্রন্থপঞ্জীর কথা আমি উল্লেখ করেছি। পাশাপাশি বেশ কয়েকটা লেখার শেষে দুর্লভ কিছু ছবি , বইয়ের প্রচ্ছদ কিংবা পেপার কাটিং ও পরিশিষ্ট হিসেবে যুক্ত করে দিয়েছি। আশা করি এটা আগ্রহী পাঠকদের জন্য একটি বিশেষ সংগ্রহের বিষয় হিসেবে পরিগণিত হবে।

আমার লেখালেখির পেছনে সব থেকে বড় অনুপ্রেরণা আমার মা ও বাবা। তাঁদের আশীর্বাদ আর উৎসাহ আমার জীবনের সকল সৃষ্টিশীলতার চালিকাশক্তি। আমি ধন্যবাদ দিতে চাই কৃষ্টিকে । রাতবিরেতে আমার লেখালেখি, বিভিন্ন আইডিয়া আর এগুলো নিয়ে আমার মাথায় কিলবিল করতে থাকা নানান ধরণের বিরক্তিকর কথা শুনেও সে আমাকে ধৈর্য ধরে সহ্য করে যাচ্ছে। প্রকাশক আরিফুর রহমান নাঈম ভাইয়ের কাছে আমার অসীম কৃতজ্ঞতা। মানুষটি যে যত্নের সাথে বইয়ের প্রত্যেকটি কাজ সম্পন্ন করেছেন – তা আমায় মুগ্ধ করেছে।

মেঘে ঢাকা তারার এই পর্বে বিস্মৃতির মেঘে ঢেকে থাকা বাঙালি বিজ্ঞানীদের জীবনের গল্পে আপনাদের স্বাগতম !

অতনু চক্রবর্ত্তী
১৭ নভেম্বর,২০১৯
বুসান
দক্ষিণ কোরিয়া

 

লেখক পরিচিতি 

অতনু চক্রবর্তী
জন্ম নড়াইল জেলায়। পিতা অসীম চক্রবর্ত্তী যিনি পেশায় শিক্ষক এবং বাঘারপাড়া ডিগ্রি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। মা সুবর্ণা চক্রবর্ত্তী, বাঙলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়ন করেছেন, বর্তমানে গৃহিণী। পৌর সানফ্লাওয়ার প্রিপারেটরি স্কুল ও নড়াইল দক্ষিণ-পূর্ব মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা, নড়াইল সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। কিন্তু পরবর্তীতে কোরিয়ান গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ প্রোগ্রাম (KGSP)-এ নির্বাচিত হওয়ায় বর্তমানে তিনি পুসান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অণুজীববিজ্ঞান বিভাগে অধ্যয়নরত। এইচআইভি গবেষণা প্রোগ্রামে সংযুক্ত রয়েছেন জাপানের সেন্টার অফ এইডস-এ।  লেখকের অন্যান্য পরিচয়ের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড কমিটির সক্রিয় সদস্য, বিভিন্ন বিজ্ঞান সাময়িকী, অনলাইন পোর্টালের লেখক, সম্পাদক ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রোগ্রামের স্বেচ্ছাসেবক। তার প্রথম বই “মেঘে ঢাকা তারাঃ বিস্মৃতির মেঘে ঢেকে যাওয়া বাঙালি বিজ্ঞানী” প্রকাশিত হয় অমর একুশে বইমেলা, ২০১৯ এ। জীববিজ্ঞানের উপর পপুলার সায়েন্স ঘরানায় তিনি লিখেছেন “ জীববিজ্ঞানের জন্য ভালবাসা”।  তার অবসর কাটে বই পড়া ও সঙ্গীত চর্চার মাধ্যমে। তিনি প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত এবং নজরুল সঙ্গীতে প্রশিক্ষণ লাভ করেছেন। অর্জন করেছেন জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতায় নজরুল ও উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতে জাতীয় পর্যায়ে যথাক্রমে স্বর্ণ ও রৌপ্য পদক সহ বিভিন্ন পর্যায়ের সম্মাননা। যুক্তিবাদ,অসাম্প্রদায়িকতা ও মুক্তচিন্তায় আস্থাশীল লেখক স্বপ্ন দেখেন সকল ধরণের কুসংস্কার ও বৈষম্য বিহীন বাংলাদেশের যেখানে বৌদ্ধিক উৎকর্ষ, বৈজ্ঞানিক প্রজ্ঞা ও মুক্তিযুদ্ধের মহান চেতনায় আলোকিত হবে সকল মানুষের হৃদয়।

আলোকচিত্রীঃ সিদ্দিক জয় 

 

Facebook Comments

comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

scroll to top