নির্বাচিত বই ।। তাম্রপ্রভার মেয়েরা।। মূলঃ অ্যানি কেমেরন।। অনুবাদঃ মোশারফ হোসাইন

তাম্রপ্রভার মেয়েরা
লেখক: অ্যানি কেমের
অনুবাদক: মোশারফ হোসাইন 
প্রকাশক: বইয়ের জাহাজ 
প্রচ্ছদ: রুবেল শাহ
মূদ্রিত মূল্য: ০০
স্টল: ২৫০-৫১ 

বই সম্পর্কে 
১৯৮১ সালে প্রকাশিত লেখিকা অ্যানি ক্যামেরনের কালজয়ী আখ্যান ‘ডটারস অভ কপার উইম্যান’ রচিত হয়েছে ক্রম বিলুপ্তপ্রায় নুটকা জনগোষ্ঠী এবং তাদের মিথকে কেন্দ্র করে। যে মিথের শুরু হয়েছে সৃষ্টির প্রথম নারীর হাত ধরে। নিঃসঙ্গ সেই নারীর কান্না থেকে নাক দিয়ে যে সর্দি বেরিয়ে আসে, তাই ঝিনুকের খোলায় বড় হয়ে উৎপত্তি হয় দ্বীপের প্রথম পুরুষের। তাদের সঙ্গমেই জন্মায় তাম্রপ্রভা নারীর প্রথম কন্যা সন্তান- মোওয়িটা। তাদের থেকেই আরও আরও নারী পুরুষ জন্ম নিয়ে এই দ্বীপপুঞ্জে পত্তন ঘটে এক নতুন মাতৃ-তান্ত্রিক নারী-প্রধান সভ্যতার। এই উপকথার দ্বীপ-সমাজ একদিকে যেমন মাতৃ-তান্ত্রিক, সমাজে নারীর ভূমিকা এবং স্বাধীনতাকে যেমন গুরুত্ব দেয়, তেমনি এই সমাজ সমবায় সমাজ। তাদের নিজস্ব সংস্কার ছিল, প্রথা ছিল, ছিল নিজস্ব জ্ঞান-বিজ্ঞান। তারা সমুদ্রের স্রোত চিনত, নৌকায় দূর দূরান্তে যাওয়ার জন্যে দিক, দূরত্ব ও অবস্থান নির্ণয়ের নিজস্ব পদ্ধতি ছিল, ছিল নিজস্ব চিকিৎসা ব্যবস্থা। কিন্তু স্বাধীন ও স্বয়ংসম্পূর্ণ এই সমাজে নারীদেহ এবং সোনার লোভে বহিরাগত নাবিকেরা ক্রমাগত অত্যাচার চালিয়েছে; তাদের সভ্য করার তাগিদে দেওয়া হয়েছে মিশনারি শিক্ষা, প্রোথিত করা হয়েছে নব-প্রজন্মের মনে যাবতীয় ভেদাভেদ। এই ভাবে প্রাচীন এক সমাজ-সভ্যতা সময়ের সাথে পরিণত হয়েছে এক উপকথায়, এক কল্পকথায়।

গল্পের ছলে মা নেকড়ের কথা, প্রেমিক ভল্লুকের কথা, তিমি শিকারির কথা কিংবা নূহ (আঃ) এর কিস্তি বা হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার অনুরূপ গল্প বলা হলেও প্রতিটি গল্পেই মিশে আছে প্রখর ধীশক্তি এবং অন্তর্নিহিত গূঢ় অর্থ; মিশে আছে ভালোবাসা আর একটি সম্প্রদায়ের উদ্দীপনা। যে ধীশক্তি এবং প্রজ্ঞার উল্লেখ করা হয়েছে তাকে নির্দিষ্ট কোনও সময়ের গণ্ডিতে বেঁধে রাখা সম্ভব নয়। গল্পগুলো আমাদের বার বার মনে করিয়ে দেবে যে ইতিহাস লেখা হয় বিজয়ীর হাতে, পরাজিতের হাতে লেখা হয় না বলেই পরাজিতের শত শত বছর ধরে লালন করে আসা বিশ্বাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এক নিমিষেই ধূলিসাৎ করে দেয়া সম্ভব। শত শত বছর ধরে স্মৃতিধরদের মাধ্যমে প্রবহমাণ সেই ঐতিহ্য, সংস্কৃতি আর ধর্ম বিশ্বাসের অশ্রুত গল্পগুলোই লেখিকা বলে গিয়েছেন। বলেছেন সেই সকল নারীদের কথা যারা ছিল সকল ক্ষমতার কেন্দ্রে; ছিল মানসিক ভাবে দৃঢ়, শারীরিক ভাবে শক্তিশালী, জাতিগত ভাবে তেজস্বী এবং সর্বোপরি সকলের কাছে সম্মানিত। যে নারীদের প্রজ্ঞা আমাদের সাহায্য করবে জীবনকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে। এই বই তাই শুধুমাত্র মিথ, গল্প বা কল্পকাহিনী নয়; তার চাইতেও বেশি কিছু।

লেখিকা অ্যানি ক্যামেরনের বহুবছর ধরে ভ্যাঙ্কুভার দ্বীপের নারীদের কাছ থেকে এই উপকথার কাহিনীমালা শুনে এসেছেন – যে কাহিনী অনেক প্রজন্ম ধরে অপার গোপনীয়তায় এবং শ্রুতির মাধ্যমে বাহিত হয়ে আসছে। হারিয়ে যাওয়া সেই পৌরাণিক সমাজের যোগসূত্র এখনও বহন করে চলেছেন যারা, তাদের কাছে অনুমতি পাওয়ার পরেই অ্যানি ক্যামেরন ১৯৮১ সালে এই বই প্রকাশ করেন।

কানাডার হার্বার পাবলিশিং থেকে বাংলায় অনুবাদের কপিরাইট কিনে নিয়ে বইয়ের জাহাজ প্রকাশনী থেকে বইটি প্রকাশিত হয়েছে। মঈন চৌধুরীর পেইন্টিং অবলম্বনে বইটির প্রচ্ছদ করেছেন রুবেল শাহ, প্রতিটি অধ্যায়ের জন্য অলঙ্করণ করে দিয়েছেন অপরূপ দে দাদা। ফারুজ বাশার ভাইয়ের তত্ত্বাবধানে এবং Syed Aunirbaan ভাইয়ের সার্বিক সহযোগীতায় বইটি অবশেষে আলোর মুখ দেখতে পেল…

লেখক পরিচিতিঃ 


মোশারফ হোসাইন  

Facebook Comments

comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

scroll to top