একগুচ্ছ চাকমা কবিতা ।। ভদ্রসেন চাকমা


বারিজ্যে রেত
গোজেন’ সিরিত্তি দেবাবুও তুদো ওইয়্যে।
বে-হা্ল! নাল বেই যার ঘুর বারিঝ্যে।
অজিরেন ঝরঝরি থুমনেই রেতঠিগ্যে।

তাঞ্জাঙর ধার নাল –
পাড় ভাঙি বেই যার গঙার পানিয়্যে ।
হা্মত্তল ভাঝি যার ঘরচাল ফুরিন্যে।
অনসূর ঝুপ ঝুপ ঝুপ তালে তালে কানসূখ।
আঝার মাস্যে পানিবাণ
হা্ধি যার দ্ব্য-চেল ঈর ভাঙি।
পেলাঙ বেই ধোই যার বারিজ্যে রেত গঙি।

রেদোর তারাগুন বানিমরা লুরো সান
ঝিমিত ঝিমিত জুনিগুন
লেজার লাইটর রিমিঝিমি প’র দেগান।
দেবা-ভূই জিরেন পা-ন
নিঝিরেদো আন্ধারত গাধি-বুর পারি।
~
অনুবাদ:


বাদল রাত
মহাসৃষ্টির ছাদ ফুটো হয়ে গেছে।
নামে অঝোরে যৌবনা বাদল।
রাতভর ঝরঝর অবিরাম নির্ঝর।

জলপ্রপাত স্ফীত, বিস্তৃত ফুটো ছাদ ছুঁয়ে।
ঝুপ ঝুপ ঝুপ বাজে মনোময় মাদল।
বাদল রাতে আষাঢ়ের ঢল।

রাতের জ্যোতিষ্করা যেন; আর্দ্র আলোর কুপি।
মিট মিট জোনাকীগুলো সব-
লেজার লাইটের মৃদু প্রতিচ্ছবি।
রাতের আঁধারে টইটুম্বুর আকাশ-মাটি স্নাত সবি।

••••••••••


ঈরবান অঝমবুদ্ধি
চিকচিক্যে রাঙা মেঘচাগা আবাদা-
পিঝুম গরি ঢাঘি যেদ’ চায় আগাঝত।
আমক! রাঞ্জুনির সাতরঙ সাজেয়্যে।
থুব থুব ধলমেঘ-
হে্ল দেবাভূইয়োত বিজেয়্যে।
সাঝন্যে সোনারঙ চুধোমূ !
আগাঝর মেঘ’ছাভায় গিলিন্যে।

ঝলগা ঝলগা মুরঘুত্যে তুবোলে
আবর হায় অজাবিন থুত্যে বোয়্যের।
মনধিব্যেয় কধা কয় আমিঝ্যে, যেন;
ঈঞ্জিব! দোজ্যের গভীন পহ্’ন পানিয়্যে।
হে্ইল মোন-মুড়োর দীগোল চোগো পথ
হা্লিগাত্যে মোনোরঙে সাঝেয়্যে!
তুও কিয়্যে, রিবেঙর পেঙজুরত উরঘুন্যে?
নিমোন নিমোন ঝলগা উমেয়্যে?

বুব’সভন তুবোল হেলে রিবেঙত।
বোনা বোনা উঙুদো হায় হুলুঙোত।
ফোঙ ন ফুদ্যে ছাভাগত-
ধুধুগর চাদারা-হুলুঙ ফুরি।
মনরেগা ন অয় কনদিন পাদারী
দি-কূল সুধোনাল এগত্তর গরি।
মুও কধায় ন ভিজ্যে চিত
মোজাগোচ্যে ঈরবান অঝমবুদ্ধি যেধকদিন-
হাঝাত্ বানি রাগেবে,
জাঙালভাঙি দিকপাদারে বেলপহ’র ন দেগেবে,
অঘা বন্দার ঈঞ্জেব
ন উদিবুও ফুরমারি হা্ধ’ চাবর মারি
বাড়া ঝাগেরেয় রেঙ শিক কাড়ি কাড়ি।
~
অনুবাদ:


শৃঙ্খলিত বোধ
কিছু কিছু মেঘ আসে ফ্যাকাসে।
ঈর্ষায় ছেঁয়ে যেতে আকাশে।
রঙধনুর সাতরঙ বিস্ময় বিন্যাসে।
সাদা সাদা মেঘগুলো ছোপ ছোপ!
আকাশের নীল ক্যানভাসে।
সোনারঙ ছেয়ে যায় নিস্প্রভ প্রচ্ছদে।

কিছু কিছু ঢেউ আসে বাতাসে-
মনখুলে কথা বলে আবেশে।
সাগরের সুনীল নিরল আর-
প্রান্তর সবুজের পাথার যেন;
সবটুকুই গেঁথে গেছে পাঁজরের খাঁচাতে।
পাঁজরের খাঁচা যেন;
পুঁতিগন্ধময় পুঁটলিতে।

কিছু কিছু কথা আসে মানসে-
কোনটাই হয়নাতো শুনা প্রকাশে।
ভাবের বাধন হয়নাতো বুনন
মূখফুটে যত নির্গত আশ্বাসে।
নির্বোধের বোধ যতদিন হবেনা-
উচ্ছ্বসিত মুক্তির উল্লাসে।

••••••••••


মেগুলো রোদোর হা্ঝি
চান্দি প’র অতালেয় গেলগোই ভাঝি।
কুলুক ওই গোঙার ঝরঝরির প’ন পানি।
বরগাঙ শুগেয় এঝের ঝাদি মাদি।
ঝরা পাদার মালা বে-রঙা জীংকানি।

সভনসিল্যে ধুল্যে চরত বুকসঙ
গারা যেই কানি কানি।
আঝা নেই বেলপ’র নুও গরি
ভাজা দিবের মুজুঙেদি হা্ঝি হা্ঝি।
নাধেংপত্তি ঝবুর গাঝত
লুক দিবুও মাধা নিগুরি।
গঙি এঝের মেগুলো রোদোর চুগুনো হা্ঝি।

~
অনুবাদ:


মেঘলা রোদের হাসি
অথৈ চাঁদনি প্রভা আজ নিষ্প্রভ হয়ে গেছে।
স্রোতস্বিনীর স্বচ্ছ জল ধারা আজ ঘোলা হয়ে গেছে।
দিনে দিনে শুকিয়ে আসছে-
কলকলে উল্লাস, উচ্ছ্বাসভরা গভীর কর্ণফুলি।
ঝরাপাতার মালায় ক্রমশ:
গাঁথা হয়ে গেছে বে-রঙা ধূসর জীবনখানি।

স্বপ্নগুলো পুঁতে গেছে বালুচড়ে বুক সমান।
ক্রন্দনে দিনকাল সবি ম্রিয়মান।
নিরাশায় ছেয়ে গেছে চাঁদনী আলোকধারা
সহাস্যে নতুনরূপে আকাশে আর ভাসবে না।
ফিঙেরা সব আড়াল ঝোপে
লুকিয়ে কাঁদে মাথাটা নুইয়ে।
কালো মেঘ ক্রমশ: আসছে তেড়ে
ফ্যাকাসে রোদ নিরস হেসে।

••••••••••


চিদো হুলুঙো পাগোরত
ফাগোন আভা যক্কে লামিবুও
সাঙসাঙ্যে দিন সাজি-গুঝি উদিবুও।
নুও রঙ ফুধিবুও মনানে হা্ঝিবুও।
জীংকানির বিজগ মাজারা আধেনেয়
ঈধোমেয়্যের অঝার বাগানান সাঝিবুও।

কনদিন যুদি দেঘা অয়
অভেদর মানেয়-ভঙঝমার দ-পধাত
কধা অভ ইঙিরে চোগো লেজ ইজিরে
হিজেহিস্যে পধমায়।
অজাবিন সময়ান কুধু যায়-
অজিরেন বানা আধি যায়।
জীংকানির চরগা থিধ নেই অনসুর পাক হায়।

আগাঝর মেঘচাগা যুদি-
অবরুক! আরুগ্যে কধা কয়-
ওই! দূরত রাঙা চিক চিক আগাঝত-
রঙবাজি পৈনালী রোনবাজি ফুধিবুও।
উদোনেয়্যে দেবাভূই অবাঙ পাদারে চেরোকিত্যে জ্বলি উদিবুও।

মেন মেন কালা মেঘর অজাবিন ঝলগা
যুদি কেয়্যেত বাজি কিরব্যে গরি যায়-
শিরপানির কুঝি কুঝি ফুধোউন থুভেয় থোচ;
জারকাদার নিমোন নিসূলি গোড়াত।
ঊম ঊম চিদো হুলুঙো পাগোরত।
উমরর তিরোচ পুরেবার ধারাজে
জুনোপ’র ফুরিনেয় রাঞ্জুনি হিঝিবুও আগাঝত।
~
অনুবাদ:


পাঁজরের খাঁজে
আবার যদি ফাগুন নামে
বসন্ত হয়ে সাজাবো সুদিন।
রঙের বিলাস ছড়াবো মনে।
ঝরা ফুলের মালা গাঁথাবো
স্মৃতির বেণুবনে।

আবার যদি দেখা হয়
জনাকীর্ণ ঘিঞ্জি মোহনায়-
তাড়া আছে জেনে নিও।
সময়টা বলে, “চলো যাই”
অবিরাম খাঁজকাটা চরকায়।

আকাশের চিত্রিত মেঘময় ভাস্কর্যগুলো যদি কথা কয়;
ঐ দিগন্তের হলুদাভ আলোকমালা হয়ে আমি আতশবাজি ফুটাবো মহা শুণ‍্যাদ‍্যানে।
ভারী মেঘের ফেরারি ঝলকা
যদি ঈষৎ ছুঁয়ে যায়।
কণাগুলো গেঁথে রেখো ফোঁটায় ফোঁটায়।
লোমকূপের নিচ্ছিদ্র কোণায় কোণায়
জীবনের তৃঞ্চা মিটিবে সে আশায়
চাঁদের আলোক ডিঙিয়ে-
রঙধনু সাতরঙ রাঙাবে আকাশটায়।

Facebook Comments

comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

scroll to top