প্রবহমান কবিতার স্রোত চলছে // শৌনক দত্ত

শৌভিক পা ভেঙ্গে পড়ে আছে একমাস, একটা মাস বিছানা ছেড়ে দাঁড়াতে পারেনি সে, কিন্তু তার মন ছুটে যায় সুদীপ্ত মাজির সাথে হাতিপোতার হাটে। তার বিনিদ্র রাত কেটে যায় গৌরব চক্রবর্তীর সাথে তর্কে বিতর্কে, কিংবা কখনো অভিমান জুড়ে থাকে সুবীর সরকার। রাতের স্লিপিং পিল সকালে হাই তোলে। গৌরব, সুদীপ্ত মাজি কিংবা সুবীর সরকার তখন ঝাপসা হয়ে আসে, ভারী চোখের পাতায় তখন এড্রিয়ান মছেল বিড়বিড় করেন, “অধিকাংশ মানুষ অধিকাংশ কবিতাকে এড়িয়ে যায়, কারণ অধিকাংশ কবিতা অধিকাংশ মানুষকে এড়িয়ে যায়।”

কবিতা কী? – এটা খুব সহজ প্রশ্ন নয় কবির পক্ষে শৌভিক জানে। নিজেকেই কতবার প্রশ্নটা করেছে, আর করতে করতে সে জেনেছে এ প্রশ্নটাই ব্যক্তিভেদে একেক রকম হয়ে যায়। কেননা যারা কবিতা লেখেন তাদের সবার অনুভবের ঐক্য একরকম নয়।

পাবলো নেরুদা বলেছিলেন, কোনো কবিকে এ ধরনের প্রশ্ন করা অনেকটা কোনো মহিলাকে তার বয়স জিজ্ঞেস করার মতো।

দুপুর গড়িয়ে আসছে। বিছানায় পড়ার আগে শেষ কবে দুপুরটা বাড়িতে কেটেছে শৌভিক মনে করার চেষ্টা করে, ঘড়ির কাটা তখন একটা ছুঁই ছুঁই, অভ্যাস মত জানালায় এসে বসেছে একটা নাম না জানা পাখি, শৌভিক একমাস ধরে খেয়াল করছে পাখিটি রোজ ঠিক এই সময় আসে, বার মিনিট থাকে তারপর উড়ে যায়। কোথায় যায়? ভুটান পাহাড়ে নাকি চিলাপাতায় সে ভাবে, ভাবে হারিয়ে ফেলা অনেক কিছুর কথাই, দীর্ঘশ্বাস ফেলে সে ডুবে যায় ঘুমে।

জয়ন্তী পাহাড়ের কাছে দাঁড়িয়ে তার মনে হয় প্রথম প্রেমের নারীটির মতই কবিতা বদলে যাচ্ছে। সময়ের নাড়ি চিরে এই সময়ের কবিরা ধারণ করে যাচ্ছেন তাদের নিজস্ব দৃশ্যপট। কবিতা এভাবেই বাঁকবদল করে। বাতাসে কমলা বনের গন্ধ এমন সময় তার কমলার চেয়ে বেশি মনে পড়ে সুজিত দাস বা উত্তম দত্তের কয়েকটি লাইন। বিস্ময়ে জড়িয়ে ধরে রঞ্জিত দাস। শৌভিক আবিস্কার করে সবার চেয়ে আলাদা যে মানুষ সৃষ্টির বিস্ময়কে ধ্বনি দিয়ে ধরতে চেয়েছিল, সেই মানুষই আবার একদিন গোষ্ঠীবদ্ধ যাপনের মধ্যে তাল আনার জন্যে ধ্বনির ব্যবহার করেছিল, সেই মানুষই প্রকৃতিকে ঈশ্বর জ্ঞান করে প্রশস্তি গেয়েছিল, রচনা করেছিল প্রার্থনার শ্লোক। এর সবই তো কবিতা। পরে প্রাচ্যে রচিত হয়েছে রামায়ণ-মহাভারতের মতো মহাকাব্য, পাশ্চাত্যেও তেমনি ইলিয়াড-ওডেসি। এইসব মহাকাব্যে মানুষের প্রেম ভালোবাসার কাহিনীর সাথে যুদ্ধ ও দেবতারা যোগ দিয়ে এক বাস্তব ও কল্পনার অসম্ভবপর সমন্বয় ঘটায়। কিন্তু সে অতিন্দ্রীয়তার যুগ পার হয়ে সমাজ যেমন এগিয়ে এসেছে, মানুষকে আর দেবতা-ঈশ্বরের রূপলাবণ্য ছটা ছড়িয়ে ক্ষমতাধরের বশীভূত রাখা সম্ভব হয়ে উঠছে না। বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় আমাদের সামনে মহাবিশ্ব উদোম হয়ে ধরা দিলে ঈশ্বরচেতনা-সহ নানান বিষয়ে চিন্তার জগতে বিপ্লব ঘটে যায়। পুঁজির বিকাশ আর তার গতিপ্রকৃতির ব্যাখ্যা পাওয়া যায় একদিন। আর মার্কসবাদী সাম্যবাদী নিদেনপক্ষে মানবতাবাদী নানা ধরনের চিন্তা মানুষের মধ্যে কাজ করতে থাকে। তাই, কবিতা মুক্ত হয়ে এসেছে অজ্ঞেয়বাদীদের দেবতা-তোষণ ও প্রশস্তি-রচনা কিংবা পরবর্তীতে রাজন্যবর্গের নামগান গাওয়া থেকে।

অনেক দূর থেকে রিমি দে’র কন্ঠ ভেসে আসছে, শৌভিক কান পাতে কানে ফিসফিস- কবিতা প্রায় মানুষের সমবয়সী। তাই মানব সভ্যতার উৎকর্ষতা দেখতে দেখতে প্রায়শ প্রশ্ন জাগে বর্তমান বিশ্বের কবিতা পূর্বের কবিতা কিংবা প্রাচীন কবিতা থেকে উৎকর্ষ বা মননঋদ্ধ হয়েছে কিনা? শৌভিক উত্তর দেয় এই প্রশ্ন – কবিতা যাত্রায় একদম অপ্রাসঙ্গিক। কেননা সময় বিচার করে কখনোই কবি ও কবিতা ছোট বা বড় হয় না। কবি ও কবিতা প্রত্যেক সময়েই বর্তমান।

অরুণেশ ঘোষ পুকুর থেকে ডুব দিয়ে ফিরে এসেছেন, চিরচেনা সরল হাসি হেসে তিনি শৌভিককে বললেন ইতিহাসের কুখ্যাত শাসক চেঙ্গিস খান কে চেনো তো? এ অশিক্ষিত পাশবিক শাসক যিনি সভ্যতার প্রভূত ক্ষতি করেছেন, তিনি শেষ জীবনে পাগল হয়ে ওঠেছিলেন অমরত্ব পাওয়ার আশায়।

তার অমাত্যরা অমরত্বের দাওয়াই সহ অনেক চিকিৎসককে নিয়ে আসতেন তার কাছে। তিনি তাদের তৈরি দাওয়াই তাদের খাওয়াতেন আর সঙ্গে সঙ্গে শিরশ্ছেদ করতেন। দেখতে চাইতেন মৃত্যুর পরও দাওয়াই গুণে তারা বেঁচে উঠেন কিনা। অবশেষে তিনি চৈনিক ঋষি, মহাস্থবির কবি চাংচুংকে তার দরবারে এনে অনেক লোভ দেখিয়ে জানতে চান অমর হওয়ার কোনো দাওয়াই সম্পর্কে তিনি জানেন কিনা।  কেননা ততদিনে চাংচুংয়ের জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে পড়েছিল বিশ্বময়। তিনি সব প্রশ্নের জবাবে কোনো কথা না বলে শুধু চীনা কায়দায় তার বুড়া আঙুল দুটি দেখালেন। আর বললেন, অমর হওয়ার উপায় প্রেম, জীবে দয়া, তলোয়ার কিংবা রাজ্য জয় নয়।

সত্যিই তো অবাক লাগে কত শত সহস্র রাজারানী গত হয়ে গেল, কবিতা বা কবি, হোমর বা লিওপার্দি, সেনেকা বা হাফিজ, রুমি, জামি বা খৈয়াম, রবীন্দ্রনাথ বা জীবনানন্দ, হুইটম্যান বা জন ডানের কবিতা বেঁচে আছে নির্বিঘ্নে। আদতে কি বলো তো কবিতার পরিভ্রমণ আদতে নিজেকে জানার জ্ঞান ও সেই জ্ঞান ছড়িয়ে দেবার মুন্সিয়ানা।

জানালার সেই পাখিটা, শৌভিক দৌঁড়ে যায়। জলদাপাড়ার মোড়ে পুণ্যশ্লোক দাশগুপ্ত বিড়ির শেষটা ফেলতেই তিনি দেখলেন শৌভিক ছুটছে, তিনি শৌভিককে ডাকলেন, শৌভিক বিমুগ্ধ চোখে দেখে, সে ভুলে যায় সে পাখির পিছু নিয়ে ছিলো, পুণ্যশ্লোক দাশগুপ্তের সাথে সে হেঁটে যায় খ্রিস্টপূর্ব ২৩০০ সালে বিশ্বের প্রথম লিখিত কবিতার (আজ অবধি পাওয়া) কবি এনহেদুয়ানার কবিতা থেকে বর্তমান বিশ্বের কবিতার দিকে। অনেক পরিবর্তনের ভিড়ে একটি জায়গায় গিয়ে তারা দাঁড়ায় সেটা হলো কাব্যশিল্প গুণ। পুণ্যশ্লোক দাশগুপ্ত আবৃত্তি করছেন, যদিও আমরা আজ যাকে কবিতা বলছি পূর্বে তার নাম ঢঙ শরীর ছন্দ ভাষা ব্যবহার প্রভৃতি বিষয়-আশয় ভিন্ন থেকে ভিন্নতর ছিল। স্বাভাবিকভাবে যদি আমরা বিশ্ব কবিতার ১৫০ বছরের ইতিহাস দেখি। তাহলে আমরা দেখব – কবিতায় অনেক ইজমের ব্যবহার হয়েছে। আর প্রত্যেকটি ইজম এক একটি ইজম থেকে স্বতন্ত্র। তাদের মধ্যে অন্যতম ইমজ হলো- অস্তিত্ববাদ, ইমপ্রেশনিজম, এ্যাবসার্ডইজম, কলাকৈবল্যবাদ, কিউবিজম, ক্লাসিসিজম, রোমান্টিসিজম, চিত্রকল্পবাদ, ডাডাবাদ, পরাবাস্তববাদ, প্রতীকবাদ, ফিউচারিজম, বাস্তববাদ, মরমিয়াবাদ ইত্যাদি। অবশ্য শেষ বিচারে কবিতাকে কোন ইজম দ্বারা অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব নয়। কবিতার ইজম একটি ধারণা বা ধারা মাত্র।

কখন যে অতনু বন্দ্যোপাধ্যায়, সঞ্জয় সাহা এসে দাঁড়িয়েছে ওরা দুজন খেয়াল করে না, দুপুর লুট করে নেয়া বিকাল জুড়ে তখন দৃশ্যের পরে দৃশ্য বাড়ি ফেরা পাখির ঠোঁটে তখন কে যেন বলছে- মৃত্যুশয্যায় জীবনানন্দকে যখন প্যাথিড্রিন দেয়া হচ্ছিল তখন আচমকা তিনি বলেছিলেন ‘আমি কোটি কোটি প্যাথিড্রিন নিয়েছি’। এ উদ্ভট অসংলগ্ন চিৎকার থেকে বেরিয়ে আসে কবি জীবনের আদি সত্য।

অতনু বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, ইহুদি বংশোদ্ভূত ওলন্দাজ দার্শনিক বারুখ স্পিনোজা মানতেন, জগৎ আর চেতনায় আমরা যে ফারাক করি, সেটি নিছক এক বিভ্রম। আরেকটু এগিয়ে গিয়ে তিনি বরং বলেন, আদতে এ দুইয়ের মধ্যে কোনো ফারাকই নেই। বৃত্তচাপের মতো একটি বাঁকা রেখার দুই পাশে উত্তল আর অবতল যেমন পরস্পরের সাপেক্ষে অস্তিত্বময়। এক পাশে উত্তল আছে বলেই আরেকটি পাশ অবতল। জগৎ আর চেতনার সম্পর্ক সে রকম অবিচ্ছিন্ন। দুইয়ে মিলে এক অভিন্ন সত্তা। শিল্প-বিপ্লবে উন্মুখ ইয়োরোপ স্পিনোজাকে নেয়নি; নিয়েছিল ফরাসি দার্শনিক রেনে দেকার্তেকে, জগৎ আর চেতনার মধ্যে ফারাকের যিনি ছিলেন মূল মন্ত্রণাদাতা। এতে শিল্প-বিপ্লবোত্তর কালে উপনিবেশের যুগ পত্তনের একটি দার্শনিক ভিত্তি পাওয়া গিয়েছিল। আমাদের কবিদের মন সেই ভেদনীতি থেকে এখনো সরে আসতে পারেনি। জগৎ আর চেতনার একের মধ্যে অপরের একাকার হয়ে যাওয়া দশাটিকে আমাদের কবিতার ভাষায় আবার যে দিন আমরা আত্মস্থ করতে পারব, বাংলা কবিতা হয়তো সে দিন আরেকটি নতুন ইতিহাসের মধ্যে প্রবেশ করবে।

একটা আস্ত অরণ্যদিন গায়ে মেখে ফিরে এসেছে মীনাক্ষী, পাপড়ি, নিলাদ্রী ও মাধবী, কুইজমাস্টার তখন প্রশ্ন উত্তর সাজাতে ব্যস্ত সন্ধ্যা নামার আগেই তাকে লিখে ফেলতে হবে এ সময়ের কবিতা আগের কবিতা থেকে কেন স্বতন্ত্র? এ প্রশ্নের একটি স্বাভাবিক উত্তরে সে লিখে, অন্য সময়ের কবিদের একবচন কবিতাকে অধুনান্তিক বহুবচনে রূপ দিয়েছে বর্তমান বিশ্বের কবিতা। এই বহুবচন রূপের কাব্য প্যাটার্নের কাব্যিক আকরিক ও শব্দের যোজন, বিয়োজন, অভিযোজন, সরল-গরল উপমা-উৎপ্রেক্ষা, ধ্বনিব্যঞ্জনা, ছন্দবিজ্ঞান নতুনত্বের ছায়াপথে উদ্ভাসিত। এই স্বাতন্ত্র্য কাব্যপ্যাটার্ন যা ধ্বনি থেকে ধমনী, ছন্দ থেকে স্বাচ্ছন্দ্য পাঠককুলকে বিমুগ্ধ করে।

সুবীর সরকার মুগ্ধতায় বিড়বিড় করে বলতে থাকে বাংলা ভাষাসহ বিশ্ব কবিতায় ত্রিশের দশক একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসম্ভাবনার জন্মদাতা দশক। আমাদের পঞ্চপান্ডবদের মতো সমগ্র বিশ্বেও অনেক মহাপান্ডবকে জন্ম দিয়েছে ত্রিশের দশক। তখন জন্ম হয়েছে সুররিয়ালিজম, ফিউচারিজম, কিউবিজমের মতো অনেক ইজমের। কিন্তু তারপর গত হতে চলছে প্রায় শতাব্দীকাল। ততদিন সাহিত্যের সুবর্ণরেখা পাড়ি দিয়েছে এক স্টেশন থেকে অন্য স্টেশনে, এভাবে ক্রমচলমান স্টেশন থেকে স্টেশনে। কিন্তু এর শেষ কোথায়। এ প্রশ্নের কোন সদুত্তর নেই। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধসহ আরও অনেক যুদ্ধ এ যাত্রাকে সাময়িক বিঘ্নিত করলেও আবার যোগ করেছে নতুন মাত্রা।

সুবীর সরকার থামতেই অরুনাভ রাহা নেমে আসে পাহাড় থেকে সে কথার পিঠে জড়ে দেয় বর্তমানে এ ধরনের দুই একটা ছোটখাটো যুদ্ধ থাকলেও আরেকটি যুদ্ধ আছে, সেটা হলো স্নায়ু ও অর্থনৈতিক যুদ্ধ এবং এর সাথে যোগ হয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি; যার কারণে বর্তমান বিশ্বের কবিতাও ধাবিত সেই দিকে। বিজ্ঞানমনস্ক কবিতা এখন লেখা হচ্ছে ভূরি ভূরি- যা পূর্বে তেমন কোন উল্লেখযোগ্য দেখা যায় নাই। বিজ্ঞানমনস্ক কবিতা কবিকে অন্য যা কিছু দিক তবে তাঁর শিল্প জীবনকে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত করে।

শৌভিকের খুব করে মনে হয় প্রত্যেক কবির একটি শিল্প জীবনযাপন দরকার, না হলে সে শিল্পের উন্নত শিখরে পৌঁছাতে পারে না। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, লোরকা, বোদলেয়ায়, র্যাঁবো, জীবনানন্দ, বিনয়, মধুসূদন, কীটস, দান্তে, সারভানটিস, মোপসাঁ, পল গগ্যাঁ, ভ্যাঁস: ভ্যানগঘের মতো মহৎ শিল্পীদের চরম শিল্পবান্ধব জীবন ছিল। তাই তাঁরা মহৎ শিল্পকর্ম সৃষ্টি করতে পেরেছেন।

প্রবহমান কবিতার স্রোত চলছে এবং অনন্তকাল ধরেই চলতে থাকবে। কবিতায় বলার ভঙ্গিমা, বক্তব্যের গতি হয়তো বদলাবে। বাঁক ফিরবে বারবার। কিন্তু মৌলিক বিষয়গুলো কি বদলাবে? হয়তো বদলাবে না। কবি যাবে, কবি আসবে। ঘর ভর্তি মানুষের আওয়াজে ঘুমটা ভেঙ্গে যায়, তৃপ্তির হাই তুলতে তুলতে তার মনে হলো কে যেন এলো না কিন্তু তার লেখা লাইন ডেকে তুললো-

বিরল ঘুমের দুধভোরে
সন্তচড়ুই ধোঁয়াটে মেঘের নামে ডাকে
কয়েক গজ আততায়ী ঘাস,…

০৪.০৪.২০২০

Facebook Comments

comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

scroll to top