কাচের আলমারিতে শিল্পসাজে রঙ্গিন গনেশ ।। আলো বসু

ভাঙ্গার আগ পর্যন্ত
মনে কর অপমান ফুল বেলপাতা
নিবেদন কর ঈশ্বরের চরণে, ঈশ্বরই বিচারক–একে বলে বাণী
আমি ছাপোষা জীব, কাদার ভেতর থেকে তুলে আনি কাদামাখা কথা
ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ি ক্রিয়াপদ জানে
নিবেদন চলে না এখানে
গায়ে লাগলে আমি মূহ্যমান
দমকা দাপটে ডালপালা মোচড়ানো বাগান
টনটন শব্দ, চুন-হলুদ রঙ টোটকা পল
পলে পলে বলে, সাবধান!
এরপরেও একটি অপমান থেকে
আরেকটি অপমানের দিকে যাই, বন্ধুতা প্রার্থনা করি
আমি মচকাই, কিন্তু ভাঙ্গি না
………

মুখাগ্নি
শ্মশানে এসেছি পৌঁছেছি, খুলে খুলে মৃত্যু লিখব বলে
ভাবিনি মুখাগ্নির মন্ত্র এভাবে মুখ পোড়াবে
অগ্নিস্নান পর্বে শ্লোক পুরনো কাসুন্দি ঘাঁটছে—
জেনে না জেনে ভুলচুকের কথা, অনুনয় বিনয়ের সুর,
লোভ, মোহের জ্বালাতে পরশমণির ছোঁয়া, দহন দানের ভিক্ষা—
লতিয়ে উঠছে আকুলতা

পূব হাওয়াতে সজনে পাতার শিহরণ,
অতীতের ভুল মনে পড়িয়ে দিলে মরা মানুষ জেগে ওঠে
আমার কি দোষ দহনকে আলো ভাবি, মৃত্যু থেকে লেখা সরে যায় যদি!
যদি আবার কোন নতুন আঁকার ক্লাশ, অঙ্কনসামগ্রী
রাবারও তো তার মধ্যেই থাকে!
………

✿ জোড়াতালির জীবন
আমার জন্মবৃত্তান্ত নিয়ে গল্পের শেষ নেই
সর্ব শক্তিমান পূর্ণানন্দ নিজেই নিজের স্বাদ নিতে চান
নিজেকে খুঁটে খুঁটে ছড়িয়ে দিয়ে তাই এই জীব জগৎ
বড় টুকরোগুলোতে মানুষ, সে বোঝে
পূর্ণ আর সে এক আসনে বসার যোগ্য নয়
ওঁর জন্য উঁচু থাক, নাগাল থেকে দূরে
কিন্তু রক্তের টান যাবে কোথায়!
সেদিকেই মানুষ ছুটতে থাকে আর মুখ থুবড়ে খানখান

টুকরো থেকে শত টুকরো হওয়া মানুষের এই
গল্প এখানেই শেষ নয়!
এখানেই শেষ নয় সময়ের অজস্র দাগে দগদগে যাত্রাপথ
যদিও জখম ও যন্ত্রণার ফাটল, যদিও চুরচুর পতন
প্রেম ভালোবাসা, ক্ষমা –– সোনার সম্পদ ছাই হয়ে গেলে
শ্মশানের শূন্যতায় মাথা তোলে মানুষ
সোনার ছাই মায়ার আঠায় জড়িয়ে জোড়া দেয় ভাঙ্গা টুকরো
প্রতি ফাটল আরও মজবুত ভরাট কাজে, সোনালী আল্পনায়
পরব নামে জোড়াতালির জীবন দেউলে
মানুষ জানে জগৎ সংসার অপূর্ণতার উদযাপন ছাড়া আর কিছুই নয়
………

✿ জ্বলে ওঠে আলো
দিন কেটে যায় সালোকসংশ্লেষে
রক্তপাতের কথা ওঠে গভীর রাতে
চেতনার রঙ অন্ধকারে খোলে ভালো,
বলতে বাঁধা নেই অন্ধকারই আমাকে
চেতনা বিষয়ে ধারণা জোগালো

ঘুমের ছায়া চাঁদের চোখে
দুলে ওঠে বিছানা বালিশে দুক্ষ সুখের ফুলছাপ
চেয়ার-টেবিল, আয়না দিনের আলোয় জড় ভেবে
মুখ ফিরিয়েছি
অন্ধকারে জীবন আগুন, পাঁজরের ছটফট
কুঠার প্রেমীর মুখ ভুলতে পারেনি!
সমদুঃখে আমার ব্যথার পাশে জেগে আছে স্পষ্ট
দেখছি

পুরনো কাহিনি খুঁটে তোলে ইট বালির দেয়াল
ওর বুকে মাথা কোটার চিহ্ন, প্রাণছোঁয়ার
কাঙ্গালপানা নতুন লেপনে মুছে দিতে চেয়েছি
বারবার

কাঁচের আলমারিতে শিল্প সাজে রঙ্গিন গণেশ
বলে ওঠে –– তাপে তিতিক্ষায় সিদ্ধ হলেই সিদ্ধিলাভ
লাফিং বুদ্ধের মৃদু হাসির ব্যর্থতার ছাপ বিষয়ে
কথা হয় আমাদের
কথা হয় এক শিং গণ্ডারের সঙ্গে গণ্ডারের চামড়া
দিয়ে তৈরি মানুষের
চোখ খুলে যায় অন্ধকারে
জীবনকে জড়বৎ লাগে ।

Facebook Comments

comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

scroll to top