‘নুয়ে থাকা’ সেজদাগুলো লহো ভবেশ্বর ।। শাহ্‌ মাহফুজুর রাহমান

✿  
একটি মেরুদণ্ডহীন কবিতা
নুয়ে আছি লতাটি যেমন।
অন্ধকার ছিদ্র করে আলো
পড়ে
ফ্লোরে-
জ্বলা জানালার____
পঙ্ক ছেনে হেনেছে ভ্রু-কুটি…
শিশুটির জামা দুলে
                              বাতাসে, লঘুতায়
অতিথি পাখির দল মেঘ নিয়ে ফিরেছে পত্রিকায়…
জটরে
ক্যালেন্ডারে ধুলো জমে; তারিখগুলো
আঙ্গুলের
             গণনায়
                            লীন…
রাস্তাময় শীতফুল ফোটে আছে টবে, বন্দনার____
‘নুয়ে থাকা’ সেজদাগুলো লহো ভবেশ্বর;
ভূ-মগ্ন
লগ্নতারে সহো____
.
.
.
✿  
অনঙ্গে রঙিন আছি
কিছু আলো নীল। কিছু রঙ গন্ধহীন থাকে।
ছাগশিশু করুণারিক্ত কাঁদে। ছাদ-সূর্যের নীচে।
আমি রাধে পালকশোভিত। বনাঞ্চলে শুকাতেছি ছায়া____
দৃষ্টি-পরিবৃত হয়ে জলগামী হই। পূর্বরাগ নেই।
অনন্তের সদাসক্তি প্রহৃত, ছিনাল। মাখি-
বৈ
ব্যে
ফা
নিয়ত শাপিত হই। বেঁচে যায় পূর্বজেরা, সন্ততিসকল…
চতুর্পার্শ্বে আনসিন আছি। পঞ্জিকায় -শীতকালীন- দণ্ডিত হয়ে।
অসবুজ মাঠ ধরে- একা। এলোমেলো পাতাঝড়- দেখি।
রোদবৃষ্টি দীক্ষাবিবর্জিত। কিছু আলো রক্তিমতাহীন…
.
.
.
৭৭
আমরা যারা প্রহার করেছি- বন-বিড়ালের ম্যাঁউ… ছায়ালতার
নির্জলা দাক্ষিণ্য। প্রার্থনার বিরাম, আশিশু দুপুর…সারগাম____
প্রচ্ছন্ন নাম-প্রলাপ এবং তটশাসিত হাওয়া…
রঙ-তরঙ্গ, বেরীঝাড়- দায়ছাড়াগোছের মেঘ…
তুলি ও তুলট, মনমরা-দিন, খেয়াপাড়: সুর-সন্ধ্যার অথই খোরাক____
সমূহ প্রান্তিক গড়পড়তা…প্যাকেট-মওসুম
দিনদিন জুতো-দানবের অন্যায্য রেলি আর আকাশী-
কালার আলিঙ্গনগুলো;
আজ অর্থবহ মনে হচ্ছে- ছাই। শকুন-সদয় দৃক
অন্তরীক্ষে থোকা থোকা কেরোসিন-বাতি, লন্ঠনমালা… প্রভূর
একচ্ছত্র (কিন্তু নিঃসঙ্গ) আরশ। নির্ধ্যান দিন
সবকিছুই।
সবকিছুই বড়ো অর্থবোধক। এমনকি প্রহৃত
                                                তুমি;
তোমার জিঘাংসা, অভিনয়ও- সেতু….
.
.
.
খেয়ানায়ে তাকিয়ে আছি দূরে।
দেখি,
পাহাড়-দাগিত রেখা। তুষারশাদা দ্বি-প্রহরের স্নান।
ফেনিল সমুদ্দুরে
ফেরী হচ্ছে ৭ পুরুষের আয়ু। আমি ফড়িঙের জেদ নিয়ে ভাবি
আকাশভেলায়
পরম প্রভূর ব্যয়িত হচ্ছে সরোদ, বর্ণচ্ছটা____
ঢেউ ভানছে ধানফল। ছাপ্পান্ন ধরনের।
তীরের ছায়া নিয়ে
গদ্যছন্দে কবিতা লিখছেন তানিয়া। তাতে মেঘের দ্বিধা আছে
চুলের উড়াল আঙ্গুলের ইশারায় থামার নাম নেই…
বিস্তারিত
সন্ধ্যা হচ্ছে প্রচুর। বস্তুতঃ
‘ওম’ বলে ডাকি।
.
.
.
✿ 
এইসব মালিন্য
একদিন শেষ হবে আমাদের চারিত্রিক ছেলেবেলাগুলি।
এইখেলা-
হাওয়াদপ, দৌড়-ঝাপ-বুলি। অতি রিক্ত ব্যাধিত প্রহর
এইসব
অন্ধকার, উজ্জ্বলতর ছবি- ধাঁধাময় বেঁচে রবে
                                                                  সমনীল বাড়ন্ত চিতে…
গতরাত, মাস, সংবৎসর ঝুলে থাকবে পরিচিত পথ-পথান্তরে
আন্তরিক স্মৃতি-আলেখ্য বাসি হাসি-সুখ হয়ে রবে _____
দরিয়া, নদীতট, প্রাত্যহিক ছায়াঙ্গনগুলি
বেঁচে থাকবে ঐ হয়ে অব্যবহৃত, বিবর্তনহীন____
ঐসব (স্মৃতিলিপ্সু) দৃশ্যাবলী
একদিন
দৃষ্টিগ্রাহ্য সুখ হয়ে র’বে____।
.
.
.
✿ 
প্রস্থানপূর্ববর্তী
স্বর্গ আর সুড়ংয়ের মাঝপথে
আমরা শুধু মুখ চাওয়াচাওয়ি করলাম…
.
.
.
.
.

Facebook Comments

comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

scroll to top